মার্কিন সেনাদের এমন আদেশ মানতে হতে পারে যা তাদের বিবেকের সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এমন পরিস্থিতিতে সেই আদেশ অমান্য করা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাথলিক আর্চবিশপ টিমোথি ব্রোগলিও। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ক্যাথলিক চার্চের কার্যক্রম তদারক করা এই ধর্মীয় নেতা বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিবেকের বিরুদ্ধে আদেশ নিয়ে উদ্বেগ
আর্চবিশপ ব্রোগলিও বলেছেন, কিছু সেনা সদস্যকে এমন নির্দেশ দেওয়া হতে পারে যা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এমন আদেশ অমান্য করা নৈতিকভাবে সঠিক হলেও এতে সংশ্লিষ্ট সেনা সদস্যরা অত্যন্ত কঠিন ও অনিরাপদ অবস্থার মুখে পড়তে পারেন। এই পরিস্থিতিই তাকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করছে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্য ও সামরিক ব্যবহারের প্রশ্ন
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শহরের রাস্তায় সেনা মোতায়েনের উদ্যোগের কথা বলেছেন এবং গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি কেবল নিজের নৈতিকতার দ্বারাই সীমাবদ্ধ।
আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার প্রসঙ্গ
আর্চবিশপ ব্রোগলিও মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও ব্যক্তিগত নৈতিকতা একসঙ্গে চলা উচিত। তার মতে, ডেনমার্কের অধীনে থাকা এবং ন্যাটোর মিত্র গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যুক্তিসংগত নয়। গ্রিনল্যান্ডের জনগণ যদি স্বেচ্ছায় এমন কিছু চাইত, সেটি ভিন্ন প্রসঙ্গ হতো। কিন্তু বিদ্যমান চুক্তির আওতায় সেখানে সামরিক স্থাপনা থাকার পরও জোরপূর্বক দখলের প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন না।

চার্চ নেতাদের ক্রমবর্ধমান আপত্তি
ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করা ক্যাথলিক চার্চ নেতাদের মধ্যে ব্রোগলিও একা নন। সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকজন আর্চবিশপ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির গতিপথ নিয়ে সমালোচনা করেছেন। অভিবাসন নীতিতেও প্রশাসনের অবস্থানের বিরুদ্ধে চার্চ নেতাদের আপত্তি অব্যাহত রয়েছে।

আইনবহির্ভূত আদেশ মানার প্রশ্ন
এর আগে কংগ্রেসের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্য এক ভিডিও বার্তায় সেনা সদস্যদের আইনবহির্ভূত আদেশ প্রত্যাখ্যানের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেন। এর জেরে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং একজন সাবেক নৌ কর্মকর্তা সেনেটরের সামরিক মর্যাদা কমানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















