ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ আবারও রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। মঙ্গলবারের এই হামলায় শহরের এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ সাবস্টেশন, যা ইউক্রেন ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। শীতের তীব্রতার মধ্যে এই বিদ্যুৎ ও তাপ সংকট সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহে বড় ধাক্কা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কিয়েভ শহরে অন্তত এক মিলিয়ন পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। চার হাজারের বেশি বহুতল আবাসিক ভবনে তাপ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ। রাতের তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সরকার জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ও তাপ পরিষেবা স্বাভাবিক করার নির্দেশ দিয়েছে এবং বুধবারের মধ্যে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
এই হামলায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়ায় তিনজন এবং কিয়েভ অঞ্চলে একজন নিহত হয়েছেন। পূর্ব, দক্ষিণ ও উত্তর ইউক্রেনের একাধিক এলাকাও আক্রমণের শিকার হয়েছে। চলতি মাসে কিয়েভে এটি দ্বিতীয় বড় হামলা, যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে শীতকালজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বাড়াচ্ছে মস্কো।
পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, হামলায় এমন কয়েকটি সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনের মোট বিদ্যুতের অর্ধেকের বেশি আসে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। এমনকি চেরনোবিল বিদ্যুৎকেন্দ্রও এক সময় বাইরের বিদ্যুৎ সংযোগ হারিয়েছিল, যদিও পরে তা পুনরায় সংযুক্ত করা হয়েছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই ধরনের হামলা সরাসরি পারমাণবিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং এটিকে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
জরুরি ব্যবস্থা ও মানুষের লড়াই
কিয়েভে ডজনের বেশি মেরামত দল কাজ করছে। সরকার এক হাজারের বেশি জরুরি কেন্দ্র চালু করেছে, যেখানে মানুষ গরম থাকার ব্যবস্থা ও মোবাইল চার্জের সুযোগ পাচ্ছে। অনেক বাসিন্দা ঘরের ভেতর অস্থায়ীভাবে তাঁবু টানিয়ে কিংবা ইট গরম করে শীত মোকাবিলা করছেন। কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি সরবরাহও বন্ধ ছিল, যা পরে স্বাভাবিক হয়েছে।
যুদ্ধ ও কূটনীতির সমান্তরাল বাস্তবতা
এই হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন দফা শান্তি আলোচনা হয়। তবে রাশিয়ার আগ্রহ খুব একটা দেখা যায়নি। জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে থামাতে যুক্তরাষ্ট্র আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং সেটাই এখন ইউক্রেনের প্রত্যাশা। তিনি আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে রাশিয়ার সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা কমে।

অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ক্ষতি
ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত অক্টোবরের পর থেকে প্রায় আট দশমিক পাঁচ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শীতের মাঝখানে এই ক্ষতি দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















