০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি? নেপালের মরদেহ শনাক্ত সংকট: এখনো নিখোঁজ ২,৪২৬ জন; ৫১৭ বিদেশি নাগরিক রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র, ৪০-৫০ টাকার গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা রংপুরে অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা, নিখোঁজ গাড়ি উদ্ধারে অভিযান ঢাকার যানজট কমাতে ৪ মাসের সময়সীমা, করওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার যাবে গাবতলীতে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকেই মানুন ৫টি সহজ অভ্যাস নিজ দলের কর্মীর সঙ্গে বিরোধ, মারধরের পর যুবদল নেতার মৃত্যু একই দিনে মনপুরার ৩ শিশু নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, লড়াই হবে ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় নিখোঁজ বন্ধু, ভেসে গেল গ্ল্যান্সির পরিচিত গ্রাম

নবায়নযোগ্য শক্তিতে বড় বাজি ফিলিপাইনের প্রাইম ইনফ্রা, জলবিদ্যুৎ ও গ্যাসে বিনিয়োগ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার

ফিলিপাইনের জ্বালানি খাতে নতুন গতি আনতে আগামী পাঁচ বছরে জলবিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পে প্রায় নয় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রাইম ইনফ্রাস্ট্রাকচার ক্যাপিটাল। দেশটির শক্তি রূপান্তর ও কম কার্বন ভবিষ্যৎকে সামনে রেখেই এই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গিয়োম লুচ্চি।

মঙ্গলবার নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুচ্চি বলেন, এই বিনিয়োগের বড় অংশই যাবে পাম্প স্টোরেজ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে। মোট বিনিয়োগের মধ্যে প্রায় সাত বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে এই খাতে। দুই স্তরের জলাধার ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হয় এই প্রযুক্তিতে, যা চাহিদার ওঠা নামার সময় গ্রিডে স্থিতিশীলতা আনে।

পাম্প স্টোরেজ প্রকল্পে জোর
প্রাইম ইনফ্রা ইতিমধ্যেই ম্যানিলার দক্ষিণ-পূর্বে লাগুনা প্রদেশে একটি বড় পাম্প স্টোরেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প থেকে এক দশমিক চার গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় তেইশ লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। পাশাপাশি রিজাল প্রদেশে আরও একটি ছোট প্রকল্প নির্মাণাধীন, যার উৎপাদন ক্ষমতা ছয়শ মেগাওয়াট। সব প্রকল্পই দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।

মালাম্পায়া গ্যাস ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা
জলবিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাস খাতেও বড় বিনিয়োগ করছে প্রাইম ইনফ্রা। দক্ষিণ চীন সাগরের কাছে অবস্থিত মালাম্পায়া গ্যাসক্ষেত্রে চতুর্থ ধাপের খনন কর্মসূচিতে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার যৌথ বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রটি একসময় লুজোন দ্বীপের প্রায় চল্লিশ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। নতুন কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে বর্তমান উৎপাদন হারে আরও পাঁচ থেকে সাত বছর গ্যাস পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন লুচ্চি।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সম্প্রতি মালাম্পায়া ক্ষেত্রকে গত এক দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস আবিষ্কার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রাইম ইনফ্রার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন কূপ থেকে দুই হাজার ছাব্বিশ সালের শেষ প্রান্তিকে উৎপাদন শুরু হতে পারে।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সম্প্রসারণ
গত বছর লোপেজ গ্রুপের ফার্স্ট জেনের গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পদের ষাট শতাংশ অধিগ্রহণ করেছে প্রাইম ইনফ্রা। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় দুই গিগাওয়াট ক্ষমতার চালু বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভবিষ্যতের একটি নতুন কেন্দ্র প্রকল্প তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। লুচ্চির মতে, এতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও অনুসন্ধান আরও টেকসই হবে এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যাবে।

সরকারি লক্ষ্য ও বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
ফিলিপাইন সরকারের সবুজ জ্বালানি পরিকল্পনার সঙ্গে প্রাইম ইনফ্রার উদ্যোগ পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বিশ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পঁয়ত্রিশ শতাংশে নেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব। তবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরদের মানসিক আশ্রয় যখন এআই: সহায়ক প্রযুক্তি নাকি নতুন ঝুঁকি?

নবায়নযোগ্য শক্তিতে বড় বাজি ফিলিপাইনের প্রাইম ইনফ্রা, জলবিদ্যুৎ ও গ্যাসে বিনিয়োগ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার

০৯:০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

ফিলিপাইনের জ্বালানি খাতে নতুন গতি আনতে আগামী পাঁচ বছরে জলবিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পে প্রায় নয় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রাইম ইনফ্রাস্ট্রাকচার ক্যাপিটাল। দেশটির শক্তি রূপান্তর ও কম কার্বন ভবিষ্যৎকে সামনে রেখেই এই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গিয়োম লুচ্চি।

মঙ্গলবার নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুচ্চি বলেন, এই বিনিয়োগের বড় অংশই যাবে পাম্প স্টোরেজ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে। মোট বিনিয়োগের মধ্যে প্রায় সাত বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে এই খাতে। দুই স্তরের জলাধার ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হয় এই প্রযুক্তিতে, যা চাহিদার ওঠা নামার সময় গ্রিডে স্থিতিশীলতা আনে।

পাম্প স্টোরেজ প্রকল্পে জোর
প্রাইম ইনফ্রা ইতিমধ্যেই ম্যানিলার দক্ষিণ-পূর্বে লাগুনা প্রদেশে একটি বড় পাম্প স্টোরেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প থেকে এক দশমিক চার গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় তেইশ লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। পাশাপাশি রিজাল প্রদেশে আরও একটি ছোট প্রকল্প নির্মাণাধীন, যার উৎপাদন ক্ষমতা ছয়শ মেগাওয়াট। সব প্রকল্পই দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।

মালাম্পায়া গ্যাস ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা
জলবিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাস খাতেও বড় বিনিয়োগ করছে প্রাইম ইনফ্রা। দক্ষিণ চীন সাগরের কাছে অবস্থিত মালাম্পায়া গ্যাসক্ষেত্রে চতুর্থ ধাপের খনন কর্মসূচিতে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার যৌথ বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রটি একসময় লুজোন দ্বীপের প্রায় চল্লিশ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। নতুন কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে বর্তমান উৎপাদন হারে আরও পাঁচ থেকে সাত বছর গ্যাস পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন লুচ্চি।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সম্প্রতি মালাম্পায়া ক্ষেত্রকে গত এক দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস আবিষ্কার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রাইম ইনফ্রার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন কূপ থেকে দুই হাজার ছাব্বিশ সালের শেষ প্রান্তিকে উৎপাদন শুরু হতে পারে।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সম্প্রসারণ
গত বছর লোপেজ গ্রুপের ফার্স্ট জেনের গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পদের ষাট শতাংশ অধিগ্রহণ করেছে প্রাইম ইনফ্রা। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় দুই গিগাওয়াট ক্ষমতার চালু বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভবিষ্যতের একটি নতুন কেন্দ্র প্রকল্প তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। লুচ্চির মতে, এতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও অনুসন্ধান আরও টেকসই হবে এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যাবে।

সরকারি লক্ষ্য ও বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
ফিলিপাইন সরকারের সবুজ জ্বালানি পরিকল্পনার সঙ্গে প্রাইম ইনফ্রার উদ্যোগ পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বিশ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পঁয়ত্রিশ শতাংশে নেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব। তবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।