দেশের ভেতরে বিনিয়োগ কার্যক্রম যখন স্থবির, ঠিক তখনই ভারতের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বড় একটি অংশ। নতুন শিল্প-কারখানা না হওয়া, কর্মসংস্থান সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ এবং রাজনৈতিক ও আইন-শৃঙ্খলার অনিশ্চয়তা মিলিয়ে দেশে বিনিয়োগের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় ভারত হয়ে উঠছে তুলনামূলক নিরাপদ ও পরিচিত বিনিয়োগ গন্তব্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিদেশে বাংলাদেশিদের মোট বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অংশই গেছে ভারতে। কয়েক বছরে এই বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে নিট বিনিয়োগের হার অস্বাভাবিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের বড় বাজার, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করছে।

তবে এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগও কম নয়। বিশ্লেষকদের মতে, দেশে যখন পুঁজি বিনিয়োগ না হয়ে বিদেশে চলে যায়, তখন শুধু অর্থ নয়—হারিয়ে যায় কর্মসংস্থান, শিল্প সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা। ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশে বিনিয়োগ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা চাপে পড়তে পারে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের যুক্তি ভিন্ন। তাঁদের মতে, ঝুঁকি কমাতে ও বাজার ধরে রাখতে আঞ্চলিক বৈচিত্র্য প্রয়োজন। দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত না হলে এই প্রবণতা থামানো কঠিন হবে। অর্থাৎ, ভারতমুখী বিনিয়োগ শুধু পুঁজি উড়াল নয়, বরং দেশের ভেতরের আস্থার সংকটেরই প্রতিফলন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















