ইন্দোনেশিয়ায় হজ ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এবার রেকর্ডসংখ্যক নারী হজ কর্মকর্তা নিয়ে প্রশিক্ষণ শেষ করেছে ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। তীর্থযাত্রীদের সেবা, দিকনির্দেশনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্ব জাকার্তায় টানা বিশ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে শুক্রবার। সারাক্ষণ রিপোর্ট
রেকর্ডসংখ্যক তীর্থযাত্রী ও বিশাল প্রস্তুতি
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রতিবছরই সর্বোচ্চ সংখ্যক হজযাত্রী পাঠায়। দুই হাজার ছাব্বিশ সালে দেশটি থেকে হজে যাবেন দুই লাখ একুশ হাজার মানুষ। তাঁদের সহায়তায় মাঠে নামবেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা এক হাজার ছয় শতাধিক হজ কর্মকর্তা। মে মাসে হজ মৌসুম শুরুর আগেই এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

শারীরিক মানসিক প্রস্তুতিই মূল লক্ষ্য
হজ ব্যবস্থাপনা মহাপরিচালক পুজি রাহারজো জানান, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য কর্মকর্তাদের শারীরিক, মানসিক, কারিগরি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানো। যাতে তাঁরা হজযাত্রীদের পথ নির্দেশনা দিতে পারেন, সেবা নিশ্চিত করতে পারেন এবং প্রয়োজনে সুরক্ষা ও দিতে পারেন। তাঁর মতে, হজ পরিচালনায় মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারাই পুরো ব্যবস্থার মূল ভরকেন্দ্র।
নারীদের অংশগ্রহণে নতুন রেকর্ড
এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো নারী কর্মকর্তার সংখ্যা। দুই হাজার ছাব্বিশ সালে পাঁচ শতাধিক নারী হজ কর্মকর্তা পাঠাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নারী ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী আরিফাতুল খোইরি ফাউজি জানান, এবার মোট কর্মকর্তার প্রায় এক তৃতীয়াংশ নারী। ইন্দোনেশিয়ার হজযাত্রীদের মধ্যে পঞ্চান্ন শতাংশের বেশি নারী এবং তাঁদের বড় একটি অংশ বয়স্ক হওয়ায় নারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংবেদনশীল সেবায় নারীদের বাড়তি ভূমিকা
মন্ত্রী ফাউজি বলেন, অনেক বিষয় রয়েছে যা নারীকর্মীরাই বেশি সংবেদনশীল ভাবে সামলাতে পারেন। কক্ষের ভেতরের সহায়তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংশ্লিষ্ট জরুরি পরিস্থিতি কিংবা নারীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা—এসব ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তারা হজযাত্রীদের বেশি যত্ন ও সহমর্মিতা দিতে পারেন।

প্রশিক্ষণের বিস্তারিত কাঠামো
জানুয়ারির দশ তারিখ থেকে ত্রিশ তারিখ পর্যন্ত চলা এই প্রশিক্ষণে শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি হজ সংক্রান্ত নীতি, ব্যবস্থাপনা কাঠামো, বাস্তব পরিস্থিতির অনুশীলন ও যোগাযোগ দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়। সামনে ফেব্রুয়ারিতে অনলাইনে আরও একটি ধাপের প্রশিক্ষণ হবে। এরপর ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন প্রস্থান কেন্দ্রভিত্তিক চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রের মুখ হিসেবে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব
হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ ইরফান ইউসুফ বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হজযাত্রী পাঠানোর দায়িত্ব ইন্দোনেশিয়াকে অত্যন্ত সংগঠিত ও প্রস্তুত থাকতে বাধ্য করে। হজ কর্মকর্তারা শুধু তীর্থযাত্রীদের প্রতিনিধি নন, তাঁরা আন্তর্জাতিক পরিসরে রাষ্ট্রের ও মুখ। তাই এই প্রশিক্ষণ শৃঙ্খলা, ঐক্য ও সমন্বয়ের ভিত্তি গড়ে তোলে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















