বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত নিউ স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটি বা নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং আঞ্চলিকভাবে অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
চুক্তির ১৫ বছরের ভূমিকা
গত ১৫ বছর ধরে এই চুক্তি বিশ্বের দুই বৃহৎ পারমাণবিক শক্তির মধ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এতে মোতায়েনকৃত কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং তা বহনের সক্ষমতার ওপর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি নিয়মিত পরিদর্শন ও যোগাযোগের মাধ্যমে স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা হয়েছিল।

চুক্তির অবসান ও নতুন আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পারমাণবিক অস্ত্র সম্প্রসারণকে স্বাভাবিক করে তুলতে পারে। বিশেষ করে এমন সময়ে এটি ঘটছে, যখন বিশ্বজুড়ে নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টা আগেই চাপের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতি উত্তর কোরিয়াকে আরও পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের যুক্তি দিতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও অঞ্চলের নিরাপত্তা চাপ
সেজং ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক শিন বোম-চিওল মনে করেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমে যেতে পারে, যা দেশটিকে অস্ত্র কর্মসূচি বাড়ানোর সুযোগ দেবে। তাঁর মতে, এটি দক্ষিণ কোরিয়া ও পুরো অঞ্চলের জন্য খারাপ খবর, কারণ এতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধিকে ঠেকানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টা দুর্বল হবে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন দেশ হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সুরক্ষা ছাতার ওপর। চারদিকে উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়ার উপস্থিতির কারণে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের চাপ আরও বাড়বে।
প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের তাগিদ
শিনের মতে, সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্যও দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এ জন্য পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া জরুরি, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার মাত্রা কমে আসছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















