যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, হংকংকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল সম্পদ খাত গড়ে তোলার চেষ্টার প্রেক্ষাপটে চীন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে—এমন সম্ভাবনায় তিনি বিস্মিত হবেন না।
সিনেট শুনানিতে উদ্বেগের ইঙ্গিত
বৃহস্পতিবার সিনেট ব্যাংকিং কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বেসেন্ট জানান, চীনের সম্ভাব্য ডিজিটাল সম্পদ নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। এসব সম্পদ হয়তো কেবল ইউয়ান নয়, সোনা–সমর্থিত অন্য কোনো ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে বলেও আলোচনা আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ ধরনের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যের সিনেটর সিনথিয়া লুমিসের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিজিটাল সম্পদ ও ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চীন যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প গড়ে তুলতে চাইছে কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই, কিন্তু সম্ভাবনাটি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
হংকংকে পরীক্ষাগার হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন
বেসেন্টের মতে, হংকং বর্তমানে একটি বড় ধরনের পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে। হংকং মনিটারি অথরিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরে ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়া ও কাঠামো পর্যালোচনা করছে, যা ভবিষ্যৎ আর্থিক ব্যবস্থায় নতুন পথ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই চীনের অগ্রগতি নিয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে যুক্তরাষ্ট্র।

ক্রিপ্টো নেতৃত্ব ধরে রাখার মার্কিন লক্ষ্য
এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে তিনি দেশটিকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। একই সঙ্গে এই খাতে চীনের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি হওয়া ঠেকাতেও ওয়াশিংটনের কৌশলগত আগ্রহ রয়েছে।
মূল ভূখণ্ডে নিষেধাজ্ঞা, হংকংয়ে সুযোগ
চীন দীর্ঘদিন ধরে মূল ভূখণ্ডে ক্রিপ্টোকারেন্সি–সম্পর্কিত ব্যবসা নিষিদ্ধ রেখেছে, আর্থিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে। তবে একই সময়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে হংকংকে ডিজিটাল সম্পদের কেন্দ্র হিসেবে বিকাশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















