চীনা গবেষকেরা কোয়ান্টাম এনক্রিপশনের ক্ষেত্রে নতুন এক অগ্রগতি অর্জন করেছেন। তারা ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি অপটিক্যাল ফাইবার জুড়ে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদানের একটি শক্তিশালী পদ্ধতি প্রদর্শন করেছেন, যেখানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ওপর ভরসা না করেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
গবেষণার ভিত্তি: একক রুবিডিয়াম পরমাণু
চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যান জিয়ানওয়ের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল লেজার রশ্মির মাধ্যমে আলাদা দুটি নেটওয়ার্ক নোডে আবদ্ধ এক জোড়া রুবিডিয়াম পরমাণুকে এই ব্যবস্থার মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছে। সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে এই পদ্ধতির বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে।

ফোটনের মাধ্যমে কোয়ান্টাম সংযোগ
গবেষকেরা একক আলোক কণা বা ফোটনের সাহায্যে দুটি পরমাণুর মধ্যে কোয়ান্টাম সংযোগ স্থাপন করেন। নেটওয়ার্কের দুই প্রান্তে থাকা পরমাণুর অবস্থা তুলনা করে তারা অভিন্ন ০ ও ১-এর ধারা তৈরি করেন, যা নিরাপদ এনক্রিপশনের জন্য যৌথ গোপন কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যন্ত্রের ত্রুটি থাকলেও নিরাপদ
এই পরীক্ষার বিশেষত্ব হলো ডিভাইস-স্বাধীন কোয়ান্টাম কী বিতরণ পদ্ধতি। এর ফলে ব্যবহৃত যন্ত্রে ত্রুটি থাকলেও বা তা নাশকতার শিকার হলেও যোগাযোগের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ থাকে।

কোয়ান্টাম আচরণে নিরাপত্তা সুরক্ষা
এই পদ্ধতির নিরাপত্তা নির্ভর করে জড়িত পরমাণুর কোয়ান্টাম-যান্ত্রিক আচরণের ওপর, যা বাস্তব ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে থাকা দুর্বলতাগুলোকে কার্যত অকার্যকর করে দেয়।
গবেষণাগার থেকে বাস্তব ব্যবহারের পথে
এর আগে এই ধরনের ডিভাইস-স্বাধীন কোয়ান্টাম কী বিতরণ কেবল স্বল্প দূরত্বে পরীক্ষাগারে প্রদর্শিত হয়েছিল। নতুন এই গবেষণা প্রমাণ-ভিত্তিক পরীক্ষার সীমা পেরিয়ে বাস্তব প্রয়োগের দিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















