জর্জিয়ার ডালটনের কার্পেট শিল্প বহু দশক ধরে অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। কিন্তু একই সঙ্গে এই শিল্প রেখে গেছে গভীর পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত সংকটের উত্তরাধিকার। দাগ প্রতিরোধী রাসায়নিক ব্যবহার করে তৈরি হওয়া কার্পেট বিশ্ববাজারে সাফল্য পেলেও সেই রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আজ মানুষ, মাটি ও পানিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্কচগার্ড নিয়ে সংঘর্ষ থেকে সংকটের শুরু
২০০০ সালে রাসায়নিক নির্মাতা একটি প্রতিষ্ঠান মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে তাদের বহুল ব্যবহৃত দাগ প্রতিরোধী পণ্যের ফর্মুলা বদলের ঘোষণা দেয়। তখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কার্পেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন—বাজারে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি কার্পেটের দায় কে নেবে।

পরবর্তীতে শিল্পখাত আগের রাসায়নিকের ঘনিষ্ঠ বিকল্প ব্যবহার অব্যাহত রাখে, যদিও বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো মানবদেহে এসব উপাদানের জমা হওয়া ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কতা দিয়েছিল।
নিয়ন্ত্রণের অভাব ও দূষণের বিস্তার
রাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় কার্পেট প্রস্তুতকারীরা আইনি বাধা ছাড়াই বিভিন্ন সংস্করণের দাগ প্রতিরোধী রাসায়নিক ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারে। উৎপাদনের বর্জ্যজল নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করে, যা জর্জিয়া ও পূর্ব আলাবামার লাখো মানুষের পানির উৎস।
এই দূষণ এতটাই তীব্র যে গবেষকেরা অঞ্চলটিকে স্থায়ী রাসায়নিক দূষণের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এসব রাসায়নিক ভাঙতে বহু বছর লাগে এবং এখন তা পানি, মাটি, ধুলা, মাছ, বন্যপ্রাণী ও মানুষের শরীরেও পাওয়া যাচ্ছে।

মানুষের শরীরে অদৃশ্য বোঝা
নদীর নিম্নপ্রবাহে বসবাসকারী বহু মানুষ রক্তে অস্বাভাবিক মাত্রায় স্থায়ী রাসায়নিকের উপস্থিতি জানতে পেরেছেন। চিকিৎসকদের কাছে এখনো স্পষ্ট সমাধান নেই। অনেকেই শারীরিক দুর্বলতা, থাইরয়েড সমস্যা ও ক্যানসারের আশঙ্কা নিয়ে জীবনযাপন করছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষের শরীরে এমন মাত্রা রয়েছে যা চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
শিল্পের দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান
কার্পেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করে, তারা রাসায়নিক সরবরাহকারী কোম্পানির আশ্বাসের ওপর নির্ভর করেছিল এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এসব উপাদান ব্যবহার বন্ধ করেছে। অন্যদিকে আইনজীবীরা বলছেন, দূষণের মূল উৎস রাসায়নিক নির্মাতারা।
বহু বছর ধরে চলা মামলা, রাজনৈতিক বিতর্ক ও নিয়ন্ত্রক দুর্বলতার মাঝে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ এখনো ন্যায়বিচার ও নিরাপদ পানির অপেক্ষায়।

নদী, জমি ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রভাব
দূষিত বর্জ্যজল জমিতে ছড়িয়ে দেওয়া, নদীতে প্রবাহিত হওয়া এবং ধুলার মাধ্যমে ঘরে প্রবেশ—সব মিলিয়ে সংকটটি নদীতীর ছাড়িয়ে কৃষিজমি ও খাদ্যব্যবস্থায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। বহু নমুনায় স্বাস্থ্যসীমার চেয়ে বেশি মাত্রায় রাসায়নিক পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
চিকিৎসকেরা লক্ষ্য করছেন তরুণ রোগীদের থাইরয়েড বিকল হওয়া ও হরমোনজনিত ক্যানসারের হার বৃদ্ধি। কিন্তু সরাসরি কারণ নির্ধারণ কঠিন হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থাও সীমাবদ্ধ।
অনেক বাসিন্দা এখনো জানেন না তাদের শরীরে কী মাত্রায় দূষণ রয়েছে, কারণ পরীক্ষার খরচ বহন করা কঠিন এবং বীমা সহায়তা সীমিত।

আইনি লড়াই ও সমাধানের সন্ধান
বিগত এক দশকে একাধিক শহর ও বাসিন্দা ক্ষতিপূরণ দাবিতে মামলা করেছে। কিছু সমঝোতায় শত শত মিলিয়ন ডলার নির্ধারিত হলেও কেউ দায় স্বীকার করেনি।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যয় আরও বিপুল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং দূষণ বহু বছর ধরে ছড়িয়ে যেতে পারে।
অপূর্ণ প্রশ্ন ও অনিশ্চিত আগামী
অঞ্চলের বহু মানুষের মনে একই প্রশ্ন—কত মানুষ তাদের স্বাস্থ্য হারিয়েছে এমন সিদ্ধান্তের কারণে, যেখানে ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।কার্পেট শিল্প অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনেছিল, কিন্তু তার বিনিময়ে যে অদৃশ্য বিষাক্ত উত্তরাধিকার রেখে গেছে, তার পূর্ণ মূল্য এখনো নির্ধারিত হয়নি।














সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















