দীর্ঘ অনুসন্ধান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পর অবশেষে ৩৫০০ বছরের পুরোনো একটি লুট হওয়া ভাস্কর্য মিশরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১১ সালের অস্থিরতার সময় এই নিদর্শনটি দেশ থেকে পাচার হয়েছিল এবং পরে আন্তর্জাতিক শিল্প বাজারে ঘুরে ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডসের একটি শিল্পমেলায় সামনে আসে। ঘটনাটি শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নই নয়, বরং বৈশ্বিক শিল্প বাজারে পাচার হওয়া প্রত্নসম্পদ পুনরুদ্ধারের গুরুত্ব ও নতুন করে সামনে এনেছে।
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের উৎস ও ইতিহাস
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাথরের তৈরি এই মাথার অংশটি মূলত একটি পূর্ণাঙ্গ মূর্তির অংশ ছিল এবং এর উৎস দক্ষিণ মিশরের লুক্সর অঞ্চল। এতে ফারাও থুতমোস তৃতীয়ের শাসনামলের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। নেদারল্যান্ডসের পুলিশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরিদপ্তরের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় যে নিদর্শনটি অবৈধভাবে মিশর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

তদন্ত, জব্দ ও ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া
২০২২ সালে নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিখট শহরের একটি শিল্প মেলা থেকে ভাস্কর্য টি জব্দ করা হয়। যে শিল্প ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানটি এটি সংগ্রহ করেছিল, তারা উৎস নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ার পর স্বেচ্ছায় নিদর্শনটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। নেদারল্যান্ডসের সংস্কৃতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মিশরের রাষ্ট্রদূতের হাতে এটি তুলে দিয়ে জানান, অন্যের সাংস্কৃতিক সম্পদ যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়াই তাদের নীতি।
মিশরের দৃষ্টিতে ঐতিহ্য ও অর্থনীতি
মিশরের রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রদর্শনী ও নিলামে ওঠা প্রত্নসম্পদের ওপর তাদের নজর থাকে। এসব নিদর্শন দেশে ফিরিয়ে আনা পর্যটন ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পর্যটকেরা মূল ঐতিহ্য দেখতে মিশরেই আসতে আগ্রহী হন। তবে ভাস্কর্যটি কোথায় প্রদর্শিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
শিশু নিরাপত্তা নিয়ে গেমিং প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা
এদিকে ভিন্ন এক সিদ্ধান্তে শিশুদের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে একটি জনপ্রিয় অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধ করেছে মিশরের শীর্ষ গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিভিন্ন দেশে আগেই এমন নিষেধাজ্ঞা বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মিশরের এক সিনেটর সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের উদ্বেগ, নিপীড়ন, অনলাইন হয়রানি, সহিংসতার প্ররোচনা এবং আর্থিক ও আচরণগত ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















