০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
বসন্তের সতেজতার প্রতীক স্প্রিং অনিয়ন বায়োহ্যাকিং: আজকের খাদ্য ও স্বাস্থ্য ট্রেন্ড কারা অনুসরণ করছে? টানা ফ্রেঞ্চের রহস্যধর্মী মাস্টারপিস “দ্য কিপার”: আইরিশ গ্রামের অন্ধকারের অন্তর্দৃষ্টি আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার ২০২৬: ছয়টি উপন্যাস পেল শীর্ষ ষ্ট্রিংলিস্ট, ঘোষণা নিয়ে সাহিত্য দুনিয়ায় আলোড়ন ওয়্যারলেস ফেস্টিভ্যালে কানিয়ে ওয়েস্টকে ঘিরে স্পনসর সরে যাচ্ছে, বাড়ছে সাংস্কৃতিক অস্বস্তি পিকসার্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন আয়-পথ খুলছে, এআই ডিজাইন বাজারে বদল আসার ইঙ্গিত এআই অবকাঠামোর দৌড় থামাচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট, যন্ত্রাংশের বিলম্ব আর শুল্কচাপ দুই সার কারখানার পর এবার বন্ধের পথে ডিএপিএফসিএল আজ রাতে পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে – ট্রাম্প প্রথমবারের মতো প্রাণীর টিকাকার্ড চালুর প্রস্তাব, স্বাস্থ্য ও জীবিকা সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় স্বস্তির বার্তা, তবু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে অনড় তেহরান

ওমানে পুনরায় শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি বলেছে, সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের এই উদ্যোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তেহরান কখনোই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ত্যাগ করবে না এবং সামরিক চাপ দেখিয়ে ইরানকে ভয় দেখানো যাবে না।

সংলাপকে স্বাগত আমিরাত
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ওমানের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকাকে প্রশংসা করে জানায়, পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো ও উত্তেজনা কমাতে এই আলোচনা ইতিবাচক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিকেই বর্তমান সংকট মোকাবিলার কার্যকর পথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনার ইতিবাচক ফল আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি জোরদার করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দেশটি।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে অনড় ইরান
তেহরানে এক অনুষ্ঠানে আব্বাস আরাঘচি বলেন, কোনো শক্তিরই ইরানের আচরণ নির্ধারণের অধিকার নেই। যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে সরে আসবে না তেহরান। তিনি আরও বলেন, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইরানকে ভীত করে না।
ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরান উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা অস্ত্রমানের কাছাকাছি প্রযুক্তিগত ধাপ। এ অভিযোগ অস্বীকার করে তেহরান বলছে, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

বিশ্বাসের ঘাটতি ও চাপের রাজনীতি
আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর গভীর অবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ ও হুমকি চলতে থাকলে প্রকৃত আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয় না। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব আলোচনাকে ইতিবাচক বললেও ইসরায়েল চায় যে কোনো চুক্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা হোক। তেহরান এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

উত্তেজনার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে
ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলা চালালে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সাম্প্রতিক অতীতের সংঘাত ও হামলার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে তেহরান বলছে, আলোচনার পথ যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
দ্বিতীয় দফা আলোচনা কবে হবে তা এখনো অনিশ্চিত। কূটনীতি এগোবে নাকি আবার সংঘাতে গড়াবে—তা নির্ভর করছে পারস্পরিক আস্থা ও চাপ কমানোর ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

বসন্তের সতেজতার প্রতীক স্প্রিং অনিয়ন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় স্বস্তির বার্তা, তবু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে অনড় তেহরান

০৬:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ওমানে পুনরায় শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি বলেছে, সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের এই উদ্যোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তেহরান কখনোই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ত্যাগ করবে না এবং সামরিক চাপ দেখিয়ে ইরানকে ভয় দেখানো যাবে না।

সংলাপকে স্বাগত আমিরাত
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ওমানের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকাকে প্রশংসা করে জানায়, পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো ও উত্তেজনা কমাতে এই আলোচনা ইতিবাচক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিকেই বর্তমান সংকট মোকাবিলার কার্যকর পথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনার ইতিবাচক ফল আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি জোরদার করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দেশটি।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে অনড় ইরান
তেহরানে এক অনুষ্ঠানে আব্বাস আরাঘচি বলেন, কোনো শক্তিরই ইরানের আচরণ নির্ধারণের অধিকার নেই। যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে সরে আসবে না তেহরান। তিনি আরও বলেন, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইরানকে ভীত করে না।
ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরান উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা অস্ত্রমানের কাছাকাছি প্রযুক্তিগত ধাপ। এ অভিযোগ অস্বীকার করে তেহরান বলছে, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

বিশ্বাসের ঘাটতি ও চাপের রাজনীতি
আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর গভীর অবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ ও হুমকি চলতে থাকলে প্রকৃত আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয় না। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব আলোচনাকে ইতিবাচক বললেও ইসরায়েল চায় যে কোনো চুক্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা হোক। তেহরান এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

উত্তেজনার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে
ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলা চালালে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সাম্প্রতিক অতীতের সংঘাত ও হামলার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে তেহরান বলছে, আলোচনার পথ যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
দ্বিতীয় দফা আলোচনা কবে হবে তা এখনো অনিশ্চিত। কূটনীতি এগোবে নাকি আবার সংঘাতে গড়াবে—তা নির্ভর করছে পারস্পরিক আস্থা ও চাপ কমানোর ওপর।