ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ দুবাই আবারও বিশ্ব স্বাস্থ্যখাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। চার দিনব্যাপী বিশ্ব হেলথ এক্সপো এমন এক সময়ে শুরু হচ্ছে, যখন নীতি, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও নেতৃত্বকে একই মঞ্চে এনে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে সমন্বিত আলোচনা জরুরি হয়ে উঠেছে।
বৃহৎ আয়োজনের নতুন মাইলফলক
৯ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে পেশাজীবীদের বিপুল উপস্থিতি ও হাজারো প্রদর্শকের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত। পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় সংস্করণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমান্তরালে আয়োজিত ল্যাব ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদর্শনী যুক্ত হওয়ায় পুরো সপ্তাহজুড়ে শহরজুড়ে স্বাস্থ্যখাতের সংযোগ, বিনিয়োগ ও সহযোগিতার এক বিস্তৃত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অগ্রগতির নতুন বাস্তবতা
বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্য খাতে উদ্ভাবন আর শুধু গবেষণাগার বা কর্পোরেট বোর্ড রুমে সীমাবদ্ধ নয়। নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বিনিয়োগ, চিকিৎসা অনুশীলন ও প্রযুক্তি প্রয়োগের সংযোগস্থলেই এখন পরিবর্তনের গতি নির্ধারণ হচ্ছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এক্সপোটি ধারণা থেকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের শক্ত বার্তা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই আয়োজনের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। নীতিগত সমন্বয়, নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, উদ্ভাবনের গ্রহণযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ফল নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি নেতৃত্বের সরাসরি সংলাপের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থার রূপরেখা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
নতুন ভেন্যু, বিস্তৃত সম্ভাবনা
প্রথমবারের মতো এই আয়োজন দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বাইরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি এবং বড় পরিসরের প্রদর্শনী ও অর্থবহ যোগাযোগের জন্য আরও নমনীয় পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই এই স্থানান্তর। নতুন ভেন্যু বৃহত্তর অংশ গ্রহণের পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্কিং ও সহযোগিতার সুযোগ ও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বৈশ্বিক অংশগ্রহণের শক্ত ভিত্তি
চীন, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কোরিয়াসহ বড় স্বাস্থ্য বাজারগুলোর সম্প্রসারিত অংশগ্রহণ দুবাইকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংলাপের নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। নতুন দেশগুলোর যুক্ত হওয়া এবং পুরোনো অংশীদারদের প্রত্যাবর্তন দেখাচ্ছে যে স্বাস্থ্যখাত ক্রমেই সীমান্ত পেরিয়ে সহযোগিতামূলক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে।
ভবিষ্যৎমুখী জ্ঞান ও উদ্ভাবনের মঞ্চ
এই সংস্করণে তিনটি প্রধান আলোচনা মঞ্চ স্বাস্থ্যখাতের আগামী দশকের দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হবে। উদ্ভাবনী ধারণা, বিনিয়োগ, নেতৃত্ব, টেকসই রূপান্তর, নির্ভুল চিকিৎসা, ক্যানসার গবেষণা, নারীর স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এতে গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে বায়োটেকনোলজি ও জীবন বিজ্ঞান ভিত্তিক নতুন অঞ্চল যুক্ত হওয়ায় জিনতত্ত্ব, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণা ও ওষুধ উৎপাদনে বাড়তে থাকা বৈশ্বিক বিনিয়োগের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের অগ্রাধিকার
চিকিৎসা পেশাজীবীদের জন্য স্বীকৃত প্রশিক্ষণ, বিশেষায়িত কর্মশালা ও উচ্চপর্যায়ের পাঠক্রম এই আয়োজনের অন্যতম ভিত্তি। স্বাস্থ্যখাতে উদ্ভাবনের বিস্তার ঘটাতে দক্ষতা, জ্ঞান ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ যে অপরিহার্য—এই উপলব্ধি এসব উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















