০৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই শহর শুধু ঘুমানোর জায়গা নয়: মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কেন্দ্র করেই নগর পরিকল্পনা হওয়া উচিত মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ, বাধ্যতামূলক হচ্ছে বয়স যাচাই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ, শপথ নিলেন ৩৫ নতুন মন্ত্রী কোরিয়ার অর্থনৈতিক সাফল্যের আড়ালে বাড়ছে বৈষম্যের নতুন রেখা পাকিস্তানে কৌশলগত তেল মজুতের পরিকল্পনা, ইরান সংকটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্যোগ পাকিস্তানের ব্যাংক জাতীয়করণের অন্যতম কারণ ছিল বাংলাদেশ সৃষ্টির ফলে সম্পদের উৎস হারানো কুয়েতে ইরানের হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের চট্টগ্রামের হোটেলে রহস্যজনক মৃত্যু, কক্ষে মিলল দম্পতির মরদেহ

প্রচার শেষ, ভোটের অপেক্ষা

সমকালের একটি শিরোনাম “প্রচার শেষ, ভোটের অপেক্ষা”

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ হলো আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আর কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ প্রচারণা চালাতে পারবেন না। কেউ প্রচারণা চালাচ্ছেন– এমন প্রমাণ মিললে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করে দিতে পারবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। ৩০০ আসনের তপশিল ঘোষণা হলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ২৯৯ আসনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হচ্ছে।

জনসভা আয়োজনে ৯৬ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা: এদিকে, ভোটের আগে-পরের ৯৬ ঘণ্টা সারাদেশে জনসভা আয়োজন বা অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এ ছাড়া ভোট গ্রহণ শুরু থেকে পরবর্তী সাড়ে ৮১ ঘণ্টা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা ও অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া বহিরাগতরা ওই এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। এ ছাড়া মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে।

গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের তপশিল ঘোষণা করেছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ শেষে ২২ জানুয়ারি (২১ জানুয়ারি রাত ১২টা) থেকে ১৯ দিনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামার সুযোগ পান সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা।

এবারের নির্বাচনে ইসির নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৭৬৮ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৬ জন। তবে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসন বাদে ২৯৯ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ২৯ জন। ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১; নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ১ হাজার ১২০ জন।

 

আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”দুর্নীতি রোধে সর্বোচ্চ কঠোরতা, তারেকের অঙ্গীকার”

নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে দেশবাসীর কাছে নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনাদের সমর্থন পেলে দেশের আগামী দিনের সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যতটা কঠোর হওয়া যায়, বিএনপি সরকার ততটাই কঠোর হবে। দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। দেশবাসীর কাছে এটি আমার অঙ্গীকার, বিএনপির অঙ্গীকার।’

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে দেওয়া ভাষণে এ অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ৩৫ মিনিটের ভাষণে তিনি অতীতের ভুলত্রুটির জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার

দায়িত্ব পালন করেছে। দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে সেই সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে; সে জন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে ধানের শীষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনি এবং আপনার পরিবারের সদস্যদের জন্য যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছি, প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষে আপনাদের সমর্থন এবং ভোট চাই।’

ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করে দেশবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কি না, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমি নেব।’

বিএনপি ভোটে জিতে সরকারে গেলে দেশের মানুষের জন্য কী করবে, সেই পরিকল্পনার কথাও একে একে তুলে ধরেন তারেক রহমান। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ আরও নানা পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারের উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিটি সেক্টর এবং প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। বর্তমান প্রজন্মের সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক অধিকার পুনর্বহাল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই চূড়ান্ত করা হয়েছে বিএনপির সব পরিকল্পনা।’

সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপরে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস—এই কথাটি আবারও সন্নিবেশিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি এমন একটি নিরাপদে বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী, পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিক নিরাপদ থাকবে।

 

বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি সই, পাল্টা শুল্ক নামল ১৯ শতাংশে”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে (এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড) সই করেছে বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। নতুন চুক্তি অনুযায়ী শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১৯ শতাংশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানীকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রফতানি করলে কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে না। চুক্তিটি সোমবার উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত হয়েছে এবং উভয় পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর এটি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

গতকাল চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীও এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গতকাল রাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তুলাজাত পণ্য দিয়ে তৈরি হলে পোশাকের শূন্য শুল্কহারের পাশাপাশি আরো কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকছে। সব ধরনের হেলথ প্রডাক্ট বিশেষ করে ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট, প্লাইউড এবং খাদ্যপণ্য পাল্টা শুল্কমুক্ত সুবিধা চুক্তির আওতায় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দুটি ভাগ আছে। এআরটি জিরো ফর গার্মেন্টস হলো বাই এগ্রিমেন্ট। আর ২ হাজার ৫০০ আইটেম আছে পার্টনার কান্ট্রি ফ্যাসিলিটেশন হিসেবে। আমরা পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে ওষুধসহ বেশকিছু পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পেয়েছি।’

গত বছরের এপ্রিল থেকে এ চুক্তির নয় মাসব্যাপী আলোচনার বিষয় উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘পারস্পরিক শুল্কবিষয়ক চুক্তি’ স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষরকারী ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার এতে সই করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ।

বিবৃতি অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার এ আলোচনা প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সার্বিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের আলোচনা দলের ‘অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘‌এ চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিতে বাংলাদেশকে মানিয়ে নেবে।’

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, চুক্তির আলোচনায় বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন শেখ বশিরউদ্দীন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এ চুক্তি আমাদের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশকে নিজ নিজ বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তি প্রবেশাধিকার দেবে।’

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্ক আরো কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। যা শুরুতে ৩৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে গত বছরের আগস্টে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে উৎপাদিত তুলা ও মানবসৃষ্ট তন্তু ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাক পণ্য মার্কিন বাজারে ‘শূন্য’ পারস্পরিক শুল্ক পাওয়ার জন্য একটি প্রক্রিয়া তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

মানবজমিনের একটি শিরোন “অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ভোট চাইলেন তারেক রহমান”

অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশবাসীর সমর্থন চেয়েছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, অতীতে বিএনপি আপনাদের সমর্থনে একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। সেই সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে। সে জন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। ৩৭ মিনিটের দেয়া ভাষণে তিনি এসময় দলমতনির্বিশেষে সকলে মিলে নিরাপদ দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৯০ ভাগের বেশি মানুষ মুসলমান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস এই কথাটি সন্নিবেশিত করেছিলেন। কিন্তু তাঁবেদার সরকার সংবিধান থেকে এই কথাটি বাদ দিয়েছিল। আল্লাহ্র রহমতে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসÑ এই কথাটি সংবিধানে সন্নিবেশিত করা হবে ইনশাআল্লাহ্।
তিনি বলেন, আমাদের এই ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মূল্যবোধের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সামাজিক, রাজনৈতিক আগ্রাসন চালানোর অপচেষ্টা হয়েছিল। অপরদিকে দেশবরেণ্য অনেক আলেম-ওলামা সোচ্চার কণ্ঠে বলেছেনÑ কেউ কেউ স্রেফ দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিশ্বাসী মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করারও অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সুতরাং সকল বিশ্বাসীর প্রতি আহ্বান- কেউ যেন বিশ্বাসী মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি এমন একটি নিরাপদে বাংলাদেশ গড়তে চায়- যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী, পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ থাকবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের এটি কোনো কারও জিজ্ঞাসা ছিল না। ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধেও কে কোন ধর্মের, কার কি ধর্মীয় পরিচয় এটি কোনো জিজ্ঞাসা ছিল না। আমরা মনে করি, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রীতি অনুযায়ী যার যার ধর্ম পালন করবেন। এটি একটি আধুনিক সভ্য সমাজের রীতি। সকল নাগরিকের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, দেশের গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ তাদের স্বাধীনতা হরণকারী স্বৈরাচার ধর্মীয় চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কোনোটিকেই পছন্দ করে না। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সংস্কৃতি বজায় রেখেই যাতে আমরা সকলে মিলেমিশে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পারিÑ এ লক্ষ্যেই স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ছিল- বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দল-মত-ধর্ম-বর্ণÑ নির্বিশেষে এই বাংলাদেশ আমাদের সবার আমরা সবাই বাংলাদেশি।
গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে উপনীত বাংলাদেশ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট চক্র জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল। কেড়ে নিয়েছিল জনগণের সকল গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক অধিকার। অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার এক মাহেন্দ্রক্ষণ আমাদের সামনে উপস্থিত। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণতন্ত্রকামী জনগণের বহুল আকাক্সিক্ষত জাতীয় নির্বাচন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই

প্রচার শেষ, ভোটের অপেক্ষা

০৯:২০:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সমকালের একটি শিরোনাম “প্রচার শেষ, ভোটের অপেক্ষা”

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ হলো আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আর কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ প্রচারণা চালাতে পারবেন না। কেউ প্রচারণা চালাচ্ছেন– এমন প্রমাণ মিললে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করে দিতে পারবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। ৩০০ আসনের তপশিল ঘোষণা হলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ২৯৯ আসনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হচ্ছে।

জনসভা আয়োজনে ৯৬ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা: এদিকে, ভোটের আগে-পরের ৯৬ ঘণ্টা সারাদেশে জনসভা আয়োজন বা অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এ ছাড়া ভোট গ্রহণ শুরু থেকে পরবর্তী সাড়ে ৮১ ঘণ্টা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা ও অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া বহিরাগতরা ওই এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। এ ছাড়া মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে।

গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের তপশিল ঘোষণা করেছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ শেষে ২২ জানুয়ারি (২১ জানুয়ারি রাত ১২টা) থেকে ১৯ দিনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামার সুযোগ পান সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা।

এবারের নির্বাচনে ইসির নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৭৬৮ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৬ জন। তবে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসন বাদে ২৯৯ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ২৯ জন। ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১; নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ১ হাজার ১২০ জন।

 

আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”দুর্নীতি রোধে সর্বোচ্চ কঠোরতা, তারেকের অঙ্গীকার”

নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে দেশবাসীর কাছে নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনাদের সমর্থন পেলে দেশের আগামী দিনের সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যতটা কঠোর হওয়া যায়, বিএনপি সরকার ততটাই কঠোর হবে। দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। দেশবাসীর কাছে এটি আমার অঙ্গীকার, বিএনপির অঙ্গীকার।’

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে দেওয়া ভাষণে এ অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ৩৫ মিনিটের ভাষণে তিনি অতীতের ভুলত্রুটির জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার

দায়িত্ব পালন করেছে। দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে সেই সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে; সে জন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে ধানের শীষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনি এবং আপনার পরিবারের সদস্যদের জন্য যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছি, প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষে আপনাদের সমর্থন এবং ভোট চাই।’

ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করে দেশবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কি না, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমি নেব।’

বিএনপি ভোটে জিতে সরকারে গেলে দেশের মানুষের জন্য কী করবে, সেই পরিকল্পনার কথাও একে একে তুলে ধরেন তারেক রহমান। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ আরও নানা পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারের উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিটি সেক্টর এবং প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। বর্তমান প্রজন্মের সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক অধিকার পুনর্বহাল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই চূড়ান্ত করা হয়েছে বিএনপির সব পরিকল্পনা।’

সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপরে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস—এই কথাটি আবারও সন্নিবেশিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি এমন একটি নিরাপদে বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী, পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিক নিরাপদ থাকবে।

 

বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি সই, পাল্টা শুল্ক নামল ১৯ শতাংশে”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে (এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড) সই করেছে বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। নতুন চুক্তি অনুযায়ী শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১৯ শতাংশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানীকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রফতানি করলে কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে না। চুক্তিটি সোমবার উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত হয়েছে এবং উভয় পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর এটি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

গতকাল চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীও এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গতকাল রাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তুলাজাত পণ্য দিয়ে তৈরি হলে পোশাকের শূন্য শুল্কহারের পাশাপাশি আরো কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকছে। সব ধরনের হেলথ প্রডাক্ট বিশেষ করে ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট, প্লাইউড এবং খাদ্যপণ্য পাল্টা শুল্কমুক্ত সুবিধা চুক্তির আওতায় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দুটি ভাগ আছে। এআরটি জিরো ফর গার্মেন্টস হলো বাই এগ্রিমেন্ট। আর ২ হাজার ৫০০ আইটেম আছে পার্টনার কান্ট্রি ফ্যাসিলিটেশন হিসেবে। আমরা পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে ওষুধসহ বেশকিছু পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পেয়েছি।’

গত বছরের এপ্রিল থেকে এ চুক্তির নয় মাসব্যাপী আলোচনার বিষয় উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘পারস্পরিক শুল্কবিষয়ক চুক্তি’ স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষরকারী ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার এতে সই করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ।

বিবৃতি অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার এ আলোচনা প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সার্বিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের আলোচনা দলের ‘অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘‌এ চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিতে বাংলাদেশকে মানিয়ে নেবে।’

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, চুক্তির আলোচনায় বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন শেখ বশিরউদ্দীন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এ চুক্তি আমাদের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশকে নিজ নিজ বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তি প্রবেশাধিকার দেবে।’

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্ক আরো কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। যা শুরুতে ৩৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে গত বছরের আগস্টে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে উৎপাদিত তুলা ও মানবসৃষ্ট তন্তু ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাক পণ্য মার্কিন বাজারে ‘শূন্য’ পারস্পরিক শুল্ক পাওয়ার জন্য একটি প্রক্রিয়া তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

মানবজমিনের একটি শিরোন “অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ভোট চাইলেন তারেক রহমান”

অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশবাসীর সমর্থন চেয়েছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, অতীতে বিএনপি আপনাদের সমর্থনে একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। সেই সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে। সে জন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। ৩৭ মিনিটের দেয়া ভাষণে তিনি এসময় দলমতনির্বিশেষে সকলে মিলে নিরাপদ দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৯০ ভাগের বেশি মানুষ মুসলমান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস এই কথাটি সন্নিবেশিত করেছিলেন। কিন্তু তাঁবেদার সরকার সংবিধান থেকে এই কথাটি বাদ দিয়েছিল। আল্লাহ্র রহমতে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসÑ এই কথাটি সংবিধানে সন্নিবেশিত করা হবে ইনশাআল্লাহ্।
তিনি বলেন, আমাদের এই ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মূল্যবোধের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সামাজিক, রাজনৈতিক আগ্রাসন চালানোর অপচেষ্টা হয়েছিল। অপরদিকে দেশবরেণ্য অনেক আলেম-ওলামা সোচ্চার কণ্ঠে বলেছেনÑ কেউ কেউ স্রেফ দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিশ্বাসী মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করারও অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সুতরাং সকল বিশ্বাসীর প্রতি আহ্বান- কেউ যেন বিশ্বাসী মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি এমন একটি নিরাপদে বাংলাদেশ গড়তে চায়- যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী, পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ থাকবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের এটি কোনো কারও জিজ্ঞাসা ছিল না। ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধেও কে কোন ধর্মের, কার কি ধর্মীয় পরিচয় এটি কোনো জিজ্ঞাসা ছিল না। আমরা মনে করি, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রীতি অনুযায়ী যার যার ধর্ম পালন করবেন। এটি একটি আধুনিক সভ্য সমাজের রীতি। সকল নাগরিকের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, দেশের গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ তাদের স্বাধীনতা হরণকারী স্বৈরাচার ধর্মীয় চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কোনোটিকেই পছন্দ করে না। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সংস্কৃতি বজায় রেখেই যাতে আমরা সকলে মিলেমিশে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পারিÑ এ লক্ষ্যেই স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ছিল- বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দল-মত-ধর্ম-বর্ণÑ নির্বিশেষে এই বাংলাদেশ আমাদের সবার আমরা সবাই বাংলাদেশি।
গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে উপনীত বাংলাদেশ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট চক্র জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল। কেড়ে নিয়েছিল জনগণের সকল গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক অধিকার। অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার এক মাহেন্দ্রক্ষণ আমাদের সামনে উপস্থিত। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণতন্ত্রকামী জনগণের বহুল আকাক্সিক্ষত জাতীয় নির্বাচন।