০৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সোনার দাম বাড়ল মার্কেটে, ডলার দুর্বল ও ট্রেজারি ফল্ড কমায় বিনিয়োগে উচ্ছ্বসিত অবস্থান সোয়াটচের সময় শেষ: ঘড়ি মহাশক্তি সুইস সংগঠনের কৌশল বদল জরুরি, বিশ্লেষকগণের হুঁশিয়ারি তুলসি গ্যাবার্ড টি.আই.জি. ভেঙে দিলেন: রাজনৈতিক অভিযোগের মাঝেই গোয়েন্দা “অস্থায়ী” টাস্কফোর্সের পতন কানাডার তুম্বলার রিজে স্কুলে বন্দুক হামলা: মৃত ১০, কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ট্রাম্পের নির্বাচনী দাবি সমর্থনে ফিরলেন তুলসি গ্যাবার্ড: ভোটে জালিয়াতির তদন্তে বিতর্কিত ভূমিকা জাপানের রাজনীতিতে নতুন মোড়: রেকর্ড জয়ে দলকে বাঁচালেন সানায়ে তাকাইচি স্ট্রোকের পর নতুন লড়াই, ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ দিয়ে অস্কার দৌড়ে স্টেলান স্কারসগার্ড পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ জোরদার, জমি কেনায় নতুন নিয়মে উদ্বেগ তারুণ্যে তেলের দাম: যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে দর নির্বাচনী দায়িত্বে পুলিশ সদস্যদের জন্য ২২ নিষেধাজ্ঞা, কড়াকড়ি নির্দেশনায় জোর নিরপেক্ষতায়

আশাই এখন ঝুঁকি: দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে ভেঙে পড়ছে মিয়ানমারের শহুরে জীবন

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। গ্রামাঞ্চলে সেনাবাহিনী ও গণতন্ত্রপন্থী শক্তির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চললেও বড় শহরগুলো সরাসরি যুদ্ধের বাইরে থেকেও গভীর সংকটে নিমজ্জিত। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, পণ্যের সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা নগরজীবনকে করে তুলেছে অনিশ্চিত ও ভীতিকর।

A badly managed economy can force people into Abject poverty. Abject  Poverty, also known as extreme or absolute poverty, is the most severe form  of poverty, characterized by a lack of basic

শিক্ষক থেকে অনলাইন কারুশিল্প বিক্রেতা

এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন মা জার চি নুয়ে। ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক শাসনের অবসানের পর তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে। ম্যান্ডালে বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন পড়াতেন তিনি।

কিন্তু ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী আবার ক্ষমতা দখল করলে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এখন জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি অনলাইনে ক্রোশেট করা পোশাক, ছোট পুতুল ও ব্যাগ বিক্রি করেন। তার কথায়, অভ্যুত্থান শুধু চাকরি কেড়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে পরিচয়ও।

The NUG's Economic War on Myanmar's Military • Stimson Center

শহরে বেঁচে থাকার লড়াই

যে সব এলাকায় পাঁচ বছর আগে সেনারা গুলি চালিয়ে বিক্ষোভ দমন করেছিল, সেখানে এখন মানুষ দিন গুজরানের সংগ্রামে ব্যস্ত। সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, মাদকাসক্তি, এইচআইভি সংক্রমণ, ছিনতাই ও আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে। শহরের দরিদ্র এলাকায় বৃদ্ধ নারী ও শিশুরা ভিক্ষায় নেমেছে, অনেক নারী বাধ্য হচ্ছেন যৌনপেশায় যেতে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গৃহযুদ্ধের কারণে ৩৬ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকে তুলনামূলক নিরাপত্তার আশায় ইয়াঙ্গুন ও ম্যান্ডালেতে আশ্রয় নিয়েছেন, ফলে জনসংখ্যার চাপ বেড়েছে। ২০২৩ সালের শেষে প্রায় অর্ধেক জনগণ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।

Five Years After Myanmar Coup, 'Even Hope Has Become a Risk' - The New York  Times

আশা থেকে আতঙ্কে

অভ্যুত্থানের আগে ইয়াঙ্গুনের একটি পোশাক কারখানায় কাজ পেয়েছিলেন মা ইয়িন মিন নুয়ে। তখন তিনি মনে করেছিলেন, ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ এসেছে। তরুণদের মধ্যে ছিল আশাবাদ, ব্যবসা বাড়ছিল, দেশ এগোচ্ছিল ধীরে ধীরে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অস্থিরতার কারণে পোশাকশিল্প ধসে পড়ে। কয়েক লাখ শ্রমিক, যাদের অধিকাংশই নারী, চাকরি হারান। এখন তার ভাষায়, এক রাতেই সব বদলে গেছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বদলে মানুষ শুধু টিকে থাকার কথা ভাবছে। এমন এক দেশ, যেখানে আশাও এখন ঝুঁকি।

নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি

সামরিক সরকার মোবাইল যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। সিম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, ভিপিএন ব্যবহার নিষিদ্ধ। দেশের বিভিন্ন সড়ক ও শহরে হাজারো চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বৈধ পাসপোর্ট থাকলেও অনেককে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের আগে পর্যন্ত বড় শহরগুলোতে দীর্ঘদিন রাতের কারফিউ বলবৎ ছিল।

গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। শুধু সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভোট হয়েছে এবং প্রত্যাশিতভাবেই সেনাসমর্থিত দল জয়ী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য আগের উদারীকরণের পথ থেকে সরে এসে পুরোনো নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

Myanmar's economy in crisis due to civil war, UNDP finds - The Washington  Post

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও বাস্তুচ্যুতি

সেনাবাহিনী জাতিগত ও গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে পাওয়া যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে বেসামরিক স্থাপনা, এমনকি হাসপাতাল, স্কুল ও উপাসনালয়ে বোমা হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রক্ষণশীল হিসাব অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর থেকে ৭ হাজার ৭০০-র বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ৩৬ লাখের বেশি মানুষ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত এবং আরও ১৬ লাখ দেশ ছেড়েছেন, যাদের অনেকেই বাধ্যতামূলক সেনাসেবার ভয়ে পালিয়েছেন।

স্বাস্থ্যখাতে গভীর সংকট

স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর দমনপীড়নও বেড়েছে। ৯০০-র বেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন, অন্তত ১৬৮ জন নিহত। ওষুধের সংকট মারাত্মক আকার নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে ঝুঁকিতে পড়ছেন।

ম্যান্ডালয়ের এক চিকিৎসক কিয়াও জিন বলেন, এখন তিনি নিজেকে আর আরোগ্যদাতা মনে করেন না; বরং প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর নীরব সাক্ষী বলে মনে হয়।

Myanmar's economy in crisis as civil strife disrupts trade and livelihoods

স্থবির উন্নয়ন

মহামারির পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক শহরে উন্নয়ন প্রকল্প এগোলেও ইয়াঙ্গুনে স্থবিরতা স্পষ্ট। নতুন একটি সেতু নির্মিত হলেও বহু বড় প্রকল্প ২০২১ সাল থেকে অসমাপ্ত পড়ে আছে।

ম্যান্ডালয়ের এক সময়ের জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী নৃত্যশিল্পী কো ইয়ে ইয়িন্ট আউং এখন রাস্তার খাবারের দোকান চালান। এক সময়ের খ্যাতিমান শিল্পী আজ জীবনের হিসাব রাখেন শুধু টিকে থাকার দিন গুনে।

উপসংহার

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় সামরিক শাসনের অধীনে থাকা মিয়ানমার একবার গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছিল। কিন্তু আবারও সেনা শাসনে ফিরে গিয়ে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত।

পাঁচ বছর পর নগরবাসীর বাস্তবতা স্পষ্ট—ভবিষ্যতের স্বপ্ন নয়, প্রতিদিনের বেঁচে থাকাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে আশাও হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনার দাম বাড়ল মার্কেটে, ডলার দুর্বল ও ট্রেজারি ফল্ড কমায় বিনিয়োগে উচ্ছ্বসিত অবস্থান

আশাই এখন ঝুঁকি: দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে ভেঙে পড়ছে মিয়ানমারের শহুরে জীবন

০৪:১৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। গ্রামাঞ্চলে সেনাবাহিনী ও গণতন্ত্রপন্থী শক্তির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চললেও বড় শহরগুলো সরাসরি যুদ্ধের বাইরে থেকেও গভীর সংকটে নিমজ্জিত। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, পণ্যের সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা নগরজীবনকে করে তুলেছে অনিশ্চিত ও ভীতিকর।

A badly managed economy can force people into Abject poverty. Abject  Poverty, also known as extreme or absolute poverty, is the most severe form  of poverty, characterized by a lack of basic

শিক্ষক থেকে অনলাইন কারুশিল্প বিক্রেতা

এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন মা জার চি নুয়ে। ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক শাসনের অবসানের পর তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে। ম্যান্ডালে বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন পড়াতেন তিনি।

কিন্তু ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী আবার ক্ষমতা দখল করলে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এখন জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি অনলাইনে ক্রোশেট করা পোশাক, ছোট পুতুল ও ব্যাগ বিক্রি করেন। তার কথায়, অভ্যুত্থান শুধু চাকরি কেড়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে পরিচয়ও।

The NUG's Economic War on Myanmar's Military • Stimson Center

শহরে বেঁচে থাকার লড়াই

যে সব এলাকায় পাঁচ বছর আগে সেনারা গুলি চালিয়ে বিক্ষোভ দমন করেছিল, সেখানে এখন মানুষ দিন গুজরানের সংগ্রামে ব্যস্ত। সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, মাদকাসক্তি, এইচআইভি সংক্রমণ, ছিনতাই ও আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে। শহরের দরিদ্র এলাকায় বৃদ্ধ নারী ও শিশুরা ভিক্ষায় নেমেছে, অনেক নারী বাধ্য হচ্ছেন যৌনপেশায় যেতে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গৃহযুদ্ধের কারণে ৩৬ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকে তুলনামূলক নিরাপত্তার আশায় ইয়াঙ্গুন ও ম্যান্ডালেতে আশ্রয় নিয়েছেন, ফলে জনসংখ্যার চাপ বেড়েছে। ২০২৩ সালের শেষে প্রায় অর্ধেক জনগণ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।

Five Years After Myanmar Coup, 'Even Hope Has Become a Risk' - The New York  Times

আশা থেকে আতঙ্কে

অভ্যুত্থানের আগে ইয়াঙ্গুনের একটি পোশাক কারখানায় কাজ পেয়েছিলেন মা ইয়িন মিন নুয়ে। তখন তিনি মনে করেছিলেন, ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ এসেছে। তরুণদের মধ্যে ছিল আশাবাদ, ব্যবসা বাড়ছিল, দেশ এগোচ্ছিল ধীরে ধীরে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অস্থিরতার কারণে পোশাকশিল্প ধসে পড়ে। কয়েক লাখ শ্রমিক, যাদের অধিকাংশই নারী, চাকরি হারান। এখন তার ভাষায়, এক রাতেই সব বদলে গেছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বদলে মানুষ শুধু টিকে থাকার কথা ভাবছে। এমন এক দেশ, যেখানে আশাও এখন ঝুঁকি।

নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি

সামরিক সরকার মোবাইল যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। সিম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, ভিপিএন ব্যবহার নিষিদ্ধ। দেশের বিভিন্ন সড়ক ও শহরে হাজারো চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বৈধ পাসপোর্ট থাকলেও অনেককে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের আগে পর্যন্ত বড় শহরগুলোতে দীর্ঘদিন রাতের কারফিউ বলবৎ ছিল।

গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। শুধু সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভোট হয়েছে এবং প্রত্যাশিতভাবেই সেনাসমর্থিত দল জয়ী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য আগের উদারীকরণের পথ থেকে সরে এসে পুরোনো নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

Myanmar's economy in crisis due to civil war, UNDP finds - The Washington  Post

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও বাস্তুচ্যুতি

সেনাবাহিনী জাতিগত ও গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে পাওয়া যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে বেসামরিক স্থাপনা, এমনকি হাসপাতাল, স্কুল ও উপাসনালয়ে বোমা হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রক্ষণশীল হিসাব অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর থেকে ৭ হাজার ৭০০-র বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ৩৬ লাখের বেশি মানুষ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত এবং আরও ১৬ লাখ দেশ ছেড়েছেন, যাদের অনেকেই বাধ্যতামূলক সেনাসেবার ভয়ে পালিয়েছেন।

স্বাস্থ্যখাতে গভীর সংকট

স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর দমনপীড়নও বেড়েছে। ৯০০-র বেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন, অন্তত ১৬৮ জন নিহত। ওষুধের সংকট মারাত্মক আকার নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে ঝুঁকিতে পড়ছেন।

ম্যান্ডালয়ের এক চিকিৎসক কিয়াও জিন বলেন, এখন তিনি নিজেকে আর আরোগ্যদাতা মনে করেন না; বরং প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর নীরব সাক্ষী বলে মনে হয়।

Myanmar's economy in crisis as civil strife disrupts trade and livelihoods

স্থবির উন্নয়ন

মহামারির পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক শহরে উন্নয়ন প্রকল্প এগোলেও ইয়াঙ্গুনে স্থবিরতা স্পষ্ট। নতুন একটি সেতু নির্মিত হলেও বহু বড় প্রকল্প ২০২১ সাল থেকে অসমাপ্ত পড়ে আছে।

ম্যান্ডালয়ের এক সময়ের জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী নৃত্যশিল্পী কো ইয়ে ইয়িন্ট আউং এখন রাস্তার খাবারের দোকান চালান। এক সময়ের খ্যাতিমান শিল্পী আজ জীবনের হিসাব রাখেন শুধু টিকে থাকার দিন গুনে।

উপসংহার

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় সামরিক শাসনের অধীনে থাকা মিয়ানমার একবার গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছিল। কিন্তু আবারও সেনা শাসনে ফিরে গিয়ে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত।

পাঁচ বছর পর নগরবাসীর বাস্তবতা স্পষ্ট—ভবিষ্যতের স্বপ্ন নয়, প্রতিদিনের বেঁচে থাকাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে আশাও হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক।