০৪:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
চীনা হয়ে ওঠা: মিমগুলো দেখায় কিভাবে বিশ্বের ছাপ চীনের উত্থান গড়ে দিয়েছে ইলিয়া মালিনিনের ইতিহাস রচনা: অলিম্পিকে ফের ব্যাকফ্লিপের জাদু নিষেধাজ্ঞা থেকে ‘বৈধ’ চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের হাত ঘুরে কীভাবে ভেনেজুয়েলার তেল কিনল চীন জেফ্রি এপস্টেইনের দামী উপহার: গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রধান আইনজীবী কি কোনো নিয়ম ভেঙেছিলেন? দীর্ঘ চন্দ্র নববর্ষ ছুটিতে ভ্রমণ জোয়ার, দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান-ভিয়েতনাম শীর্ষে তামা নয়, অ্যাসিডই ভরসা: চীনের গলনকারখানার লাভ কতদিন টিকবে? চীনা সামরিক কর্মকর্তাদের টার্গেট করে সিআইএর নতুন ভিডিও, বৈঠকের আগে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা ট্রাম্প স্থগিত করছেন চীন‑ভিত্তিক প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা, এপ্রিলের সম্মেলনের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরে যাবে তাকাইচির জাপান নির্বাচনে বিশাল জয়, কেন ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া ট্রাম্প-শি বৈঠকে প্রধান উত্তাপের কেন্দ্র হতে পারে তাইওয়ান ইস্যু

শেখ হাসিনার দিল্লি নির্বাসন ও বিএনপির পাওয়ার দায়িত্ব: পরবর্তী কতিপয় প্রশ্ন

ঢাকা ত্যাগের পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো দিল্লিতে নির্বাসনে রয়েছেন। এই সময়ে তিনি বিভিন্নবার মন্তব্য করেছেন ও সময়‑সময় লোকজনের মাঝে দৃশ্যমান হলেও মূলত রাজনৈতিক অঙ্গনে অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় থেকেছেন। এরই মাঝে বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি ১২‑এর নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বড় বিজয় নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তারেক রহমান আগামী সরকার গঠনে এগিয়ে থাকায় বিএনপি‑মুখী প্রচেষ্টা নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

ঢাকায় ২০০৪ সাল থেকে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ থাকলেও আগস্ট ২০২৪‑এর ছাত্রসমাবেশ ও প্রতিবাদের উত্তাপে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তিনি ভারতে চলে যান এবং ২০২৫ পর্যন্ত দিল্লি‑তে অবস্থান করছিলেন। সেসময়ও তিনি বাংলাদেশে চলমান সরকার ও পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দিক থেকে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ ঘোষণা  করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। বিএনপি চেয়ারম্যান ...

নির্বাচন ও বিএনপির জয়ের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিএনপি ২০২৬ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে বিশাল অংশীদারিত্ব নিয়ে বিজয়ের মুখ দেখছে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য নেতৃত্বে এগিয়ে আছেন। এটি দুই দশক পর বিএনপির জন্য বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে তেমন উদ্বেগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সরকার ছেড়ে দিল্লিতে যান। তার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় যার নেতৃত্বে ছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনুস এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি‑সহ বিভিন্ন দল অংশগ্রহণ করে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র  নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ ঘোষণা। ছবি — বিএনপি মিডিয়া সেল #VoteBNP  #BNPMediaCell ...

দিল্লি নির্বাসনে থাকা সময় হাসিনার ভূমিকা
দিল্লিতে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন বার বাংলাদেশে বর্তমান ঐক্য ও সরকারের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দিল্লি থেকে দেয়া এক বক্তৃতায় তিনি নাগরিকদের অভ্যুত্থান, বর্তমান সরকারের অবসান ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়ে মন্তব্য করেন।

জটিলতায় ভারত‑বাংলাদেশ সম্পর্ক
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল বারবার তুলেছে এবং এটি বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার ও বিদেশ বিভাগও ব্যাখ্যা করেছে যে ভারত তাকে ফিরিয়ে দিলে অনন্যায় ও বিচারবর্জিত কার্যকলাপ হতে পারে। নিঃসন্দেহে এটি দুই দেশের রাজনীতিক সম্পর্কের জন্য কঠিন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুতরাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া
ভারত সরকার আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কথা গ্রহণ করলেও স্পষ্ট জানিয়েছে এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত অবস্থান ও পরিস্থিতির উপরে নির্ভর করবে। ভারতের উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা বলেছেন হাসিনা কী পরিস্থিতিতে দিল্লি এসেছেন তা বিবেচ্য এবং তার ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্তে প্রাধান্য পাবে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ায়। বিএনপি‑র জয় ও ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপটে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়ন, আদালতের রায়, মানবাধিকার অভিযোগ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনর্বাসনের মতো প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে।

অতএব, শেখ হাসিনার দিল্লি নির্বাসন ও তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা এখন বাংলাদেশে ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক আলোচনায় অন্যতম কেন্দ্রিয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি‑এর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও ভারত‑বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বিভিন্ন অভিমত ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনা হয়ে ওঠা: মিমগুলো দেখায় কিভাবে বিশ্বের ছাপ চীনের উত্থান গড়ে দিয়েছে

শেখ হাসিনার দিল্লি নির্বাসন ও বিএনপির পাওয়ার দায়িত্ব: পরবর্তী কতিপয় প্রশ্ন

০৩:১৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা ত্যাগের পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো দিল্লিতে নির্বাসনে রয়েছেন। এই সময়ে তিনি বিভিন্নবার মন্তব্য করেছেন ও সময়‑সময় লোকজনের মাঝে দৃশ্যমান হলেও মূলত রাজনৈতিক অঙ্গনে অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় থেকেছেন। এরই মাঝে বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি ১২‑এর নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বড় বিজয় নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তারেক রহমান আগামী সরকার গঠনে এগিয়ে থাকায় বিএনপি‑মুখী প্রচেষ্টা নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

ঢাকায় ২০০৪ সাল থেকে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ থাকলেও আগস্ট ২০২৪‑এর ছাত্রসমাবেশ ও প্রতিবাদের উত্তাপে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তিনি ভারতে চলে যান এবং ২০২৫ পর্যন্ত দিল্লি‑তে অবস্থান করছিলেন। সেসময়ও তিনি বাংলাদেশে চলমান সরকার ও পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দিক থেকে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ ঘোষণা  করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। বিএনপি চেয়ারম্যান ...

নির্বাচন ও বিএনপির জয়ের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিএনপি ২০২৬ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে বিশাল অংশীদারিত্ব নিয়ে বিজয়ের মুখ দেখছে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য নেতৃত্বে এগিয়ে আছেন। এটি দুই দশক পর বিএনপির জন্য বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে তেমন উদ্বেগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সরকার ছেড়ে দিল্লিতে যান। তার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় যার নেতৃত্বে ছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনুস এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি‑সহ বিভিন্ন দল অংশগ্রহণ করে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র  নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ ঘোষণা। ছবি — বিএনপি মিডিয়া সেল #VoteBNP  #BNPMediaCell ...

দিল্লি নির্বাসনে থাকা সময় হাসিনার ভূমিকা
দিল্লিতে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন বার বাংলাদেশে বর্তমান ঐক্য ও সরকারের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দিল্লি থেকে দেয়া এক বক্তৃতায় তিনি নাগরিকদের অভ্যুত্থান, বর্তমান সরকারের অবসান ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়ে মন্তব্য করেন।

জটিলতায় ভারত‑বাংলাদেশ সম্পর্ক
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল বারবার তুলেছে এবং এটি বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার ও বিদেশ বিভাগও ব্যাখ্যা করেছে যে ভারত তাকে ফিরিয়ে দিলে অনন্যায় ও বিচারবর্জিত কার্যকলাপ হতে পারে। নিঃসন্দেহে এটি দুই দেশের রাজনীতিক সম্পর্কের জন্য কঠিন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুতরাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া
ভারত সরকার আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কথা গ্রহণ করলেও স্পষ্ট জানিয়েছে এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত অবস্থান ও পরিস্থিতির উপরে নির্ভর করবে। ভারতের উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা বলেছেন হাসিনা কী পরিস্থিতিতে দিল্লি এসেছেন তা বিবেচ্য এবং তার ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্তে প্রাধান্য পাবে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ায়। বিএনপি‑র জয় ও ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপটে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়ন, আদালতের রায়, মানবাধিকার অভিযোগ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনর্বাসনের মতো প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে।

অতএব, শেখ হাসিনার দিল্লি নির্বাসন ও তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা এখন বাংলাদেশে ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক আলোচনায় অন্যতম কেন্দ্রিয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি‑এর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও ভারত‑বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বিভিন্ন অভিমত ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিবেচিত হচ্ছে।