চন্দ্র নববর্ষের দীর্ঘ ছুটি ঘিরে এবার ভ্রমণে ঝুঁকছেন বিপুলসংখ্যক হংকংবাসী। ক্যালেন্ডারের সুবিধাজনক বিন্যাসের কারণে মাত্র দুই দিন ছুটি নিলেই টানা নয় দিন অবকাশ উপভোগ করা যাচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেকে দেশ-বিদেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন।
জনপ্রিয় গন্তব্যে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম ও মূল ভূখণ্ড চীন
এ বছর চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম এবং মূল ভূখণ্ড চীন হংকংবাসীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। ভ্রমণ সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ ছুটি ভ্রমণ চাহিদাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছুটি শুরুর ঠিক আগে বিমানবন্দর ও সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে যাত্রীদের চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ ট্যুর প্যাকেজে বাড়তি আগ্রহ
সানফ্লাওয়ার ট্রাভেল সার্ভিসেসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক এবং ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি এমপ্লয়িজ জেনারেল ইউনিয়নের সহসভাপতি মুন ইয়াউ মুন-ই জানান, চন্দ্র নববর্ষকে ঘিরে আট থেকে নয় দিনের ট্যুর প্যাকেজের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ বছর অফিসকর্মীদের মাত্র দুই দিন ছুটি নিলেই টানা নয় দিনের অবকাশ মিলছে, যা ভ্রমণ পরিকল্পনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে ইউনানের জন্য বুকিং গত বছরের তুলনায় তিনগুণ বেড়েছে। অনেক ভ্রমণকারী স্বল্পমেয়াদি সফরের বদলে দীর্ঘ ভ্রমণপথ বেছে নিচ্ছেন।
সীমান্তে যাত্রী চলাচলে বড় বৃদ্ধি প্রত্যাশা

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৪ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মোট ১ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার যাত্রী হংকংয়ের সীমান্ত অতিক্রম করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে হংকংবাসী ও আগত দর্শনার্থী উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।
যদিও সরকার বহির্গমন ও আগমন যাত্রীর আলাদা পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি, তবে অনুমান করা হচ্ছে এই সময়ে স্থলসীমান্ত দিয়ে প্রায় ৯৫ লাখ ২০ হাজার যাত্রা সম্পন্ন হবে। যা গত বছরের একই সময়ের ৭৩ লাখ ৪০ হাজার যাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
ছুটির কৌশলেই বাড়ছে ভ্রমণ প্রবণতা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্যালেন্ডারের সামান্য পরিবর্তন এবং পরিকল্পিত ছুটি ব্যবস্থাপনাই এ বছরের ভ্রমণ চাহিদা বাড়ানোর প্রধান কারণ। কর্মজীবীরা কম ছুটি নিয়ে দীর্ঘ অবকাশ পাওয়ায় পরিবারসহ বিদেশ সফরের প্রবণতা বেড়েছে। ফলে পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
চন্দ্র নববর্ষ ঘিরে এই ভ্রমণ প্রবণতা হংকংয়ের ভোক্তা আচরণ এবং আঞ্চলিক পর্যটন বাজারে নতুন গতি সঞ্চার করেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















