ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ চীনা সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে একটি নতুন নিয়োগ ভিডিও প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই ভিডিও ঘিরে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, আগামী এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ নেতাদের বহুল প্রত্যাশিত বৈঠকের আগে দুই দেশের সম্পর্কে যে নাজুক স্থিতাবস্থা তৈরি হয়েছিল, এই পদক্ষেপ তা আরও চাপে ফেলতে পারে।
একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে তাঁর ‘খুব ভালো সম্পর্ক’-এর কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু সেই দিনেই সিআইএর এমন উদ্যোগ বেইজিংয়ের ক্ষোভ উসকে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনা ভাষায় ভিডিও, লক্ষ্য অসন্তুষ্ট কর্মকর্তারা
চীনা ভাষায় তৈরি এই ভিডিওটি সিআইএর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটি জানায়, এটি এমন সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তৈরি, যারা নেতৃত্বের ওপর আস্থাহীন বা অসন্তুষ্ট এবং তথ্য দিতে আগ্রহী।
ভিডিওতে একজন কাল্পনিক মধ্যম পর্যায়ের চীনা সামরিক কর্মকর্তাকে দেখানো হয়েছে, যিনি শেষ পর্যন্ত সিআইএর গোপন বার্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, “নেতারা কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছেন” এবং “তাদের ক্ষমতা অসংখ্য মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।”
এই উপস্থাপনার মাধ্যমে সিআইএ ইঙ্গিত দেয় যে তারা চীনা ব্যবস্থার ভেতরে অসন্তোষ খুঁজছে এবং সেই অসন্তোষকে কাজে লাগাতে চায়।
খোলামেলা আহ্বান: “সত্য জানতে চাই”
ভিডিওর নিচে চীনা ভাষায় একটি বার্তায় বলা হয়, বিশ্বাসযোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের খোঁজা হচ্ছে, যারা তথ্য শেয়ার করতে প্রস্তুত।

সিআইএ সরাসরি প্রশ্ন তোলে: আপনার কাছে কি চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পর্কে তথ্য আছে? আপনি কি সামরিক কর্মকর্তা, অথবা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেন? আপনি কি গোয়েন্দা, কূটনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান বা উন্নত প্রযুক্তি খাতে কাজ করছেন, কিংবা এ ক্ষেত্রের ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত?
বার্তার শেষে সংস্থাটি আহ্বান জানায়, “আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমরা সত্য জানতে চাই।”
কূটনৈতিক বার্তা নাকি মনস্তাত্ত্বিক চাপ?
বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রকাশ্য আহ্বান শুধু গোয়েন্দা কার্যক্রমের অংশ নয়, বরং এটি এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপের কৌশলও হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আগে এই পদক্ষেপ দুই দেশের পারস্পরিক সন্দেহ আরও বাড়াতে পারে।
এপ্রিলের সম্ভাব্য বৈঠককে সামনে রেখে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তখন সিআইএর এই ভিডিও প্রকাশ দুই দেশের সম্পর্কের ভঙ্গুর বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনে দিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















