পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে নিরাপত্তা চেষ্টার অংশ হিসেবে সোমবার বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানি বিমান বাহিনী সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে প্রায় ৮০ জন সন্ত্রাসী ধ্বংস করেছে। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল ফিতনা আল-খোয়ারিজ এবং তার সহযোগী সন্ত্রাসী শিবির। এই হামলা আফগানিস্তানের নানগারহার, পাকতিকা ও খোস্ত প্রদেশে পরিচালিত হয়েছে এবং পাকিস্তানে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চালানো হয়েছে।

লক্ষ্যবস্তু এবং আকার
নানগারহারের নিউ সেন্টার নং ১ ও নং ২, খোস্তের খোয়ারিজি মাওলভী আব্বাস সেন্টার, নানগারহারের খোয়ারিজি ইসলাম সেন্টার ও খোয়ারিজি ইব্রাহিম সেন্টার, এবং পাকতিকার খোয়ারিজি মোল্লা রাহবার ও খোয়ারিজি মুখলিস ইয়ারের সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। রাষ্ট্র মন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, পাকিস্তান ৭০,০০০টিরও বেশি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান সম্পন্ন করেছে এবং অনেক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির মন্তব্য
পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি এক টুইটে উল্লেখ করেছেন, সীমান্ত-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক পদক্ষেপ পাকিস্তানের নাগরিকদের রক্ষা করার অধিকার প্রতিফলিত করে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক রিপোর্ট উদ্ধৃত করে তিনি সতর্ক করেছেন, যারা পাকিস্তানে রক্তপাত ঘটাচ্ছে তারা নিরাপদে থাকবে না।

আফগানিস্তান ও সীমান্ত নিরাপত্তা
মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান বহু বছর ধরে সন্ত্রাসের উত্পাদন করছে। পাকিস্তান তার নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তালাল চৌধুরী স্মরণ করিয়েছেন, ২০২০ সালের দোহা চুক্তিতে আফগান তালিবান সন্ত্রাস প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তারা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তান হাজার হাজার আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং আফগানিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করেছে।
সীমান্ত উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘর্ষ
গত বছর পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে সংঘর্ষে ২০০-এর বেশি তালিবান ও সহযোগী সন্ত্রাসী নিহত হয়, এবং ২৩ পাকিস্তানি সেনা শহীদ হন। সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলা, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে, পাকিস্তানকে কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। তালাল চৌধুরী বলেন, দেশটির সমস্ত রাজনৈতিক দল একমত হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে।

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















