শিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে হঠাৎ ক্ষমতার পরিবর্তনের পর উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর বন্দিশিবির ও কারাগার ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে নতুন করে জঙ্গি তৎপরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কারাগার ভাঙার ঘটনার পর উদ্বেগ
গত জানুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব শিরিয়ার শাদ্দাদি শহরের কাছে একটি কারাগার ভেঙে পালানোর ঘটনা পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে। পরিত্যক্ত প্রহরী কক্ষ, খোলা ফটক ও পড়ে থাকা কমলা পোশাক—সব মিলিয়ে হঠাৎ পালিয়ে যাওয়ার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস এসব কারাগার পাহারা দিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বাহিনী উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়।

নতুন সরকারের সামনে বড় পরীক্ষা
ক্ষমতার এই পরিবর্তনের ফলে হাজার হাজার বন্দির দায়ভার এখন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সরকারের ওপর এসে পড়েছে। ২০১৯ সালে ইসলামিক স্টেট পরাজিত হওয়ার পর থেকে যেসব বন্দি ও তাদের পরিবার বিভিন্ন শিবিরে ছিল, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
শাদ্দাদি কারাগার ভাঙার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিদের একটি অংশকে ইরাক এ স্থানান্তরের অভিযান শুরু করে। কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ বন্দিকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।
আল হোল শিবির প্রায় খালি
সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিশাল আল হোল শিবির থেকে হাজার হাজার নারী ও শিশুকে বের হতে দেওয়া হয়। একসময় যেখানে ২০ হাজারের বেশি মানুষ ছিল, সেখানে এখন অনেক অংশ ফাঁকা পড়ে আছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, শিবিরে থাকা অনেকেই আইএস সদস্য নয়, বরং যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ পরিবার। তাই তাদের আটকে রাখা সমাধান নয়। তবে কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় না থাকায় হস্তান্তরের সময় নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিকল্পিত পালানোর সন্দেহ
গবেষকেরা বলছেন, বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে আইএসের ঘুমন্ত সদস্যরা সক্রিয় হয়। সীমান্ত পেরিয়ে কিছু সদস্য ইরাক থেকে এসেছিল বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য ছিল অস্ত্র জোগাড় করা এবং নির্দিষ্ট পরিবারগুলোকে বের করে নেওয়া।
এক নারী, যিনি শিবিরে আইএস পরিবারগুলোর নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তার পালিয়ে যাওয়ার খবরও ছড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে উল্লাসের বার্তা দেখা গেছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, হঠাৎ বিপুলসংখ্যক মানুষের বের হয়ে যাওয়া শুধু পালানো ব্যক্তিদের নয়, পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে। কেউ কেউ সন্দেহ করছেন, ভেতরের সহায়তা ছাড়া এমন ঘটনা সম্ভব নয়।

সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, তারা নিজেরাও আইএস হামলার শিকার হয়েছে এবং গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট।
বিচার ও স্থানান্তর প্রক্রিয়া
যেসব বন্দিকে ইরাকে নেওয়া হয়েছে, তাদের রাজধানী বাগদাদ এ বিচার করার কথা রয়েছে। পরে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
এদিকে রাজধানী দামেস্ক থেকে পাঠানো বিচারক কমিটির প্রধান বলেছেন, শিরিয়ায় কারাগারের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদ পতনের পর জনগণের চাপ সামলানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















