ভারতে বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড’-এর মুক্তি স্থগিত করেছে কেরালা উচ্চ আদালত। নির্ধারিত দিনে প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশে তা আপাতত থমকে গেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ছবিটির বিষয়বস্তু সামাজিক সম্প্রীতি, আইনশৃঙ্খলা ও জনশান্তি বিঘ্নিত করার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
মুক্তির আগে প্রদর্শনী ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
মুক্তির আগের দিন আদালতে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী হয়। শুনানিতে বিচারপতি মন্তব্য করেন, কেরালা সম্প্রীতির পরিবেশে বসবাস করে। কিন্তু ছবিটি এমন একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যেন গোটা রাজ্যজুড়ে ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটছে। এই উপস্থাপন ভুল বার্তা দিতে পারে এবং উত্তেজনা ছড়াতে পারে।
আদালত আরও প্রশ্ন তোলে, চলচ্চিত্র ছাড়পত্র প্রদানকারী কেন্দ্রীয় বোর্ড যথাযথভাবে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে কি না। ছবিটি ষোলোটি সংশোধন ও কিছু সংলাপ পরিবর্তনের শর্তে ষোলোর ঊর্ধ্বে দর্শকদের জন্য অনুমোদন পেয়েছিল। পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছিল দীর্ঘ ঘোষণা, যেখানে বলা হয় এটি সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। তবুও আদালতের মতে, জনমনে উদ্বেগ থাকলে কঠোর শ্রেণিবিন্যাস প্রযোজ্য হওয়া উচিত ছিল।

শিল্পী স্বাধীনতা বনাম জনসংবেদনশীলতা
শুনানিতে উঠে আসে শিল্পী স্বাধীনতা ও জনসংবেদনশীলতার সূক্ষ্ম ভারসাম্যের প্রসঙ্গ। সাধারণত আদালত সৃজনশীল কাজে হস্তক্ষেপ করে না। তবে ছবির শিরোনামে কেরালার নাম ব্যবহার এবং সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত দাবি করার কারণে বিষয়টি বিচারিক পর্যালোচনায় আসে।
আদালত মনে করে, যখন কোনো রাজ্যের নাম সরাসরি ব্যবহার করা হয় এবং তা বিতর্কিত বয়ানের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন রাজ্যের ভাবমূর্তির প্রশ্নও সামনে আসে।
‘লাভ জিহাদ’ বিতর্ক ও রাজ্যের ভাবমূর্তি
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে কথিত ‘লাভ জিহাদ’ বয়ান। আবেদনকারীদের দাবি, ছবিতে কয়েকজন তরুণীকে এই ঘটনার শিকার হিসেবে দেখানো হয়েছে, যাঁদের কেউই কেরালার নন। কিন্তু শিরোনামে কেরালার নাম ব্যবহারের ফলে রাজ্যকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রযোজকদের বক্তব্য, ছবিটি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা ধর্মকে লক্ষ্য করে নির্মিত নয়। তাঁরা জানান, অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানো হবে।

পরিচালনা ও প্রযোজনা
ছবিটি পরিচালনা করেছেন Kamakhya Narayan Singh এবং প্রযোজনা করেছেন Vipul Amrutlal Shah। এর আগে অনুরূপ আপত্তির মুখে অন্য একটি চলচ্চিত্রেও কাটছাঁটের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত, সেই নজিরও শুনানিতে উল্লেখ করা হয়।
এখন প্রশ্ন উঠছে, কোনো চলচ্চিত্র যদি নিজেকে বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত বলে দাবি করে এবং কোনো রাজ্যের নাম ব্যবহার করে, তবে সেই রাজ্যের সামাজিক ভাবমূর্তি কতটা গুরুত্ব পাবে ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককেই নতুন করে সামনে এনে দিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















