কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে আবারও বিস্ফোরক খবর। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই ১১০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে। এই বিনিয়োগ সম্পন্ন হলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৮৪০ বিলিয়ন ডলার। প্রযুক্তি বিশ্বে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় আর্থিক চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই তহবিলে বড় তিন বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হয়েছে সফটব্যাঙ্ক, এনভিডিয়া ও অ্যামাজন। সফটব্যাঙ্ক দিচ্ছে ৩০ বিলিয়ন ডলার, এনভিডিয়া ৩০ বিলিয়ন ডলার এবং অ্যামাজন ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগে এই বিপুল বিনিয়োগ ওপেনএআইকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দৌড়ে বড়দের লড়াই
বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন ওপেনএআইকে ঘিরে অংশীদারিত্বের দৌড়ে নেমেছে। কারণ, ওপেনএআই দ্রুতগতিতে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করছে এবং উন্নত মডেল তৈরিতে বিপুল ব্যয় করছে। এই পরিস্থিতিতে বড় প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীরা মনে করছে, ওপেনএআইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় বড় সুবিধা এনে দেবে।
অ্যামাজনের ধাপে ধাপে বিনিয়োগ
অ্যামাজন প্রথম ধাপে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে আরও ৩৫ বিলিয়ন ডলার যোগ হবে। পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলাদা প্রযুক্তিগত চুক্তিও হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ওপেনএআই অ্যামাজনের নিজস্ব ট্রেনিয়াম চিপের মাধ্যমে ২ গিগাওয়াট কম্পিউটিং সক্ষমতা ব্যবহার করবে।
এছাড়া অ্যামাজনের ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ওপেনএআই ফ্রন্টিয়ারের একমাত্র তৃতীয় পক্ষ ক্লাউড সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট তৈরি, পরিচালনা ও স্থাপন করতে পারবে।
মাইক্রোসফটের সম্পর্ক অটুট
নতুন এই চুক্তির ফলে মাইক্রোসফটের সঙ্গে ওপেনএআইয়ের বিদ্যমান সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। ওপেনএআইয়ের মডেলে প্রবেশাধিকার প্রদানকারী এপিআইগুলোর জন্য মাইক্রোসফটের ক্লাউডই একচেটিয়া সরবরাহকারী হিসেবে থাকবে। ওপেনএআইয়ের নিজস্ব পণ্যগুলোও আগের মতোই মাইক্রোসফটের ক্লাউড অবকাঠামোতেই হোস্ট করা হবে।
এনভিডিয়ার আগের অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন
এনভিডিয়া এর আগে সর্বোচ্চ ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছিল। নতুন ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সেই অঙ্গীকারের অংশ কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ১১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল কেবল একটি বিনিয়োগ চুক্তি নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার নতুন মাত্রা। ওপেনএআইকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি জায়ান্টদের যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতের ডিজিটাল অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















