০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
এ৬৬ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত: সংঘবদ্ধ অপরাধের তদন্তে ১২ জন গ্রেপ্তার ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব, অন্টারিও হ্রদের নাম হতে পারে ‘আমেরিকা হ্রদ’ ডেভনে বন্ধ টাংস্টেন খনি ফের চালু করতে ৭১ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ ব্রিটিশ সরকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি গণিতের ভবিষ্যৎ শেষ করে দেবে? এখনই নয় ২৩ বছর পর ফিরছে ‘হাউ টু লুজ আ গাই ইন ১০ ডেজ’, প্রযোজনায় কেট হাডসন মাওয়ের ব্যঙ্গাত্মক ভাস্কর্য নির্মাণের দায়ে চীনা শিল্পীর তিন বছরের কারাদণ্ড সংস্কারের ভূত: অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে আসার কঠিন পরীক্ষা রাজনৈতিক প্রভাব কেনার বিল এবার বড় ব্যবসাকেই দিতে হবে প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার টাইটানিকের শতাধিক নিদর্শন নিলাম বন্ধ করলেন মার্কিন বিচারক

শীতলক্ষ্যার তীরে ইটিপি ছাড়া ২০ কারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে পরিবেশগত শোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই পরিচালিত ২০টি শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নদী দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশনা
বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইটিপি ছাড়া পরিচালিত ২০টি শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনতাসির উদ্দিন আহাম্মেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুর রহমান।

রিটের পটভূমি
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানা ইটিপি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব কারখানার বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে জনস্বার্থে রিট দায়ের করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।

গত বছরের ৬ মে হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করে। একই সঙ্গে দূষণকারী শিল্পকারখানাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন, পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং তা আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে
আদালতের নির্দেশ অনুসারে পরিবেশ অধিদপ্তর গত ৮ ডিসেম্বর আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অন্তত ২০টি শিল্পকারখানা ইটিপি ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব প্রতিষ্ঠান নদী দূষণের সঙ্গে জড়িত।

প্রতিবেদনে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আরএসকে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিট ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইং অ্যান্ড প্রসেসিং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এম আর ডাইং, আব্দুর রব ডাইং, বিসমিল্লা নিট ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং এবং হাজি রাসূল ডাইংসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।

আদালতের পরবর্তী নির্দেশ
প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। এতে ইটিপি ছাড়া পরিচালিত শিল্পকারখানাগুলোর বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

আবেদনের শুনানি শেষে আদালত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে আদালত নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে একটি কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এ৬৬ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত: সংঘবদ্ধ অপরাধের তদন্তে ১২ জন গ্রেপ্তার

শীতলক্ষ্যার তীরে ইটিপি ছাড়া ২০ কারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ

০৬:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে পরিবেশগত শোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই পরিচালিত ২০টি শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নদী দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশনা
বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইটিপি ছাড়া পরিচালিত ২০টি শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনতাসির উদ্দিন আহাম্মেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুর রহমান।

রিটের পটভূমি
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানা ইটিপি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব কারখানার বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে জনস্বার্থে রিট দায়ের করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।

গত বছরের ৬ মে হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করে। একই সঙ্গে দূষণকারী শিল্পকারখানাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন, পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং তা আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে
আদালতের নির্দেশ অনুসারে পরিবেশ অধিদপ্তর গত ৮ ডিসেম্বর আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অন্তত ২০টি শিল্পকারখানা ইটিপি ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব প্রতিষ্ঠান নদী দূষণের সঙ্গে জড়িত।

প্রতিবেদনে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আরএসকে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিট ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইং অ্যান্ড প্রসেসিং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এম আর ডাইং, আব্দুর রব ডাইং, বিসমিল্লা নিট ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং এবং হাজি রাসূল ডাইংসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।

আদালতের পরবর্তী নির্দেশ
প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। এতে ইটিপি ছাড়া পরিচালিত শিল্পকারখানাগুলোর বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

আবেদনের শুনানি শেষে আদালত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে আদালত নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে একটি কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।