চার বছরের বিরতির পর আবারও একসঙ্গে মঞ্চে ফিরছে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কোরিয়ান সংগীতদল বিটিএস। দীর্ঘ সামরিক দায়িত্ব ও একক সংগীতচর্চার পর এবার তারা ফিরছে বড় আয়োজন নিয়ে। তাদের পুনর্মিলনী কনসার্টের ঝলক দেখিয়ে সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে নতুন ট্রেলার, যা ইতোমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সিউলের ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে প্রত্যাবর্তন
প্রকাশিত ট্রেলারে দেখা যায়, সিউলের ঐতিহাসিক গওয়াংহওয়ামুন স্কোয়ারের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আছেন বিটিএসের সদস্যরা। বহু শতাব্দীর পুরোনো স্থাপত্যের মাঝখানে তাদের উপস্থিতি যেন এক প্রতীকী প্রত্যাবর্তনের গল্প বলে। সামরিক সেবা শেষে সাত সদস্যের সবাই একত্রে আবার মঞ্চে উঠবেন—এটাই হবে তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ দলীয় পরিবেশনা।

ট্রেলারের পটভূমিতে বাজতে শোনা যায় দলের জনপ্রিয় গান ‘মিক্রোকসমস’। এর মাঝেই দলনেতা আরএম-এর কণ্ঠ শোনা যায়—ভক্তদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি তারা রেখেছেন, আবারও ফিরে এসেছেন তাদের কাছে। আরেকটি কণ্ঠে বলা হয়, দীর্ঘ বিরতির সময়ে প্রত্যেক সদস্যই নতুন অভিজ্ঞতায় বদলে গেছেন এবং আরও পরিণত হয়েছেন।
নতুন অ্যালবাম প্রকাশের পরই কনসার্ট
এই কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে দলের পঞ্চম অ্যালবাম ‘আরিরাং’ প্রকাশের ঠিক একদিন পর। অ্যালবামটিতে মোট চৌদ্দটি গান রয়েছে। এর প্রধান গান ‘সুইম’, যেখানে জীবনের প্রতিকূলতার মাঝেও এগিয়ে চলার দৃঢ় সংকল্পের কথা বলা হয়েছে।
‘আরিরাং’ নামটি কোরিয়ার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। যদিও অ্যালবামের নাম ঐতিহ্যবাহী, তবুও গানের শিরোনামগুলো আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের লক্ষ্য করেই রাখা হয়েছে বলে মনে করছেন সংগীত বিশ্লেষকেরা।

বিশ্ব সফরের পরিকল্পনা
পুনর্মিলনী কনসার্টের পরই শুরু হবে বিটিএসের বৃহৎ বিশ্ব সফর। ২০২৬ সাল থেকে শুরু হয়ে এই সফর চলবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কনসার্টের মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে আবারও সরাসরি দেখা করবে দলটি।
এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি কনসার্ট নয়, বরং চার বছরের অপেক্ষার পর নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখছেন ভক্তরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















