সমকালের একটি শিরোনাম “শরীরজুড়ে ১৮টি আঘাত, ডান গলায় গভীর ক্ষত”
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার শরীরে ১৮ থেকে ২০টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি গভীর ক্ষত রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এ তথ্য জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষিকা আসমার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশ শহরের কোর্টপাড়ার বাসায় নেওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। গত বুধবার অফিস সহায়ক (অস্থায়ী) ফজলুর রহমানের ছুরিকাঘাতে খুন হন আসমা সাদিয়া রুনা।
এদিকে এ হত্যার ঘটনায় চারজনকে আসামি করে গতকাল সকালে থানায় মামলা করেছেন আসমার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। আসামির মধ্যে দুজন সহকারী অধ্যাপকও রয়েছেন। হত্যার প্রতিবাদে বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। সাদিয়ার পরিবারের সদস্যরা একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমাম জানান, রুনাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তাঁর শরীরে ১৮টির মতো ছোট বড় আঘাত রয়েছে। তবে গলার ডান পাশে গভীর ক্ষত দেখা গেছে। সেখানে রক্ত জমাট বাধা ছিল। বাঁ পাশেও ক্ষত আছে। গলায় পোঁচ না দিয়ে সোজা ছুরি ঢুকিয়ে দেওয়ার কারণে গভীর ক্ষত হয়েছে।
আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”শিশুদের বইয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন”
বইমেলায় শিশুদের জন্য এবার আলাদা করে চত্বর করা হয়নি। মেলার একটি অংশে শিশুদের প্রকাশনার জন্য স্টল সাজানো হয়েছে। শিশুদের জন্য অনেক বই-ই বের হচ্ছে এখন। তুলনামূলকভাবে তাদের বই বিক্রির সংখ্যা নেহাত কম নয়। তবে বেশির ভাগ বইয়ের মান নিয়ে অভিজ্ঞজনদের অভিযোগ আছে। সেসব অভিযোগ যে খুব অযৌক্তিক না, তা দৈবচয়ন ভিত্তিতে কিছু বই ঘাঁটলেই বোঝা সম্ভব। গতকাল বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদক একটা ছোট ‘সমীক্ষা’ও চালিয়েছেন।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, বইমেলার স্টলে স্টলে সাজানো শিশুদের বইয়ের অবস্থা খুব একটা সুবিধার নয়। বেশির ভাগ প্রকাশক পুরোনো বই নিয়েই হাজির। অনেক ক্ষেত্রে একই বই প্রচ্ছদ পালটে যেনতেন করে বের করা হয়েছে।
শিশুদের বইয়ের একটি স্টলে চোখ আটকে গেল ‘মৎস্য কন্যা’ নামের বইতে। প্রচ্ছদে বিদেশি কার্টুনের ছবি বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছাপা নিম্নমানের। পুরো বইয়ের পাতায় পাতায় ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা ছবি। মৎস্য কন্যার যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে, তা শিশুদের উপযোগীও নয়। কিন্তু স্টলে থাকা বইটির প্রকাশক দাবি করলেন, ‘ছবিগুলো ঠিক আছে। বাচ্চারা এগুলো বোঝে না!’
বাচ্চাদের ভূতের গল্পের একটি বইয়ের প্রথম গল্পটি দেখা গেল আসলে গ্রামীণ কিংবদন্তি। এক সাধকের আশীর্বাদে এক রাতের মধ্যেই দিঘি খোঁড়ার কাহিনি। গল্পটিতে ‘কুটির’ শব্দটি চারবার লেখা হয়েছে ‘কুঠির’। অলংকরণ শিল্পী ‘মফিজ মিয়া’ নামে একজনকে এঁকেছেন টি-শার্ট পরা তরুণের চেহারায়। ছবিতে অমাবস্যা রাতের পরের দিন আকাশে দেখা যাচ্ছে পূর্ণিমার মতো বড় চাঁদ! অর্থাৎ শিল্পী ভালো করে মাত্র ৩ পৃষ্ঠার গল্পটি পড়েননি। বিষয়টি এড়িয়ে গেছে স্বয়ং লেখক এবং প্রকাশকের চোখও।
বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “রেশনিং করে জ্বালানি সংকট মোকাবেলার লক্ষ্য সরকারের”
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট তৈরির পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশকেও সামনের দিনে জ্বালানি সংকট মোকাবেলা করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে সরকারিভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বৈদ্যুতিক বাতি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রাংশ (এসি) ব্যবহার কমিয়ে আনা, আলোকসজ্জা পরিহারসহ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে গ্যাস সাশ্রয়ের লক্ষ্যে পাঁচটি সার কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে এরই মধ্যে এলএনজির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে পেট্রোবাংলা। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা কমানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানিতে সংকট তৈরি হওয়ায় জ্বালানি পণ্যে রেশনিং করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জারি করা নির্দেশনাপত্রে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় জাতীয়ভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় প্রয়োজন। এজন্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও করপোরেশনসহ সব অফিসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই নির্দেশনায় দায়িত্বশীল আচরণের অংশ হিসেবে দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার পরিহার করা, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা, অফিসে অতিরিক্ত ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমিয়ে ফেলাসহ সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি জ্বালানি খরচ হয় এমন যানবাহন ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
দেশে গ্যাসের ৬০ শতাংশের বেশি ব্যবহার হয় বিদ্যুৎ ও সার কারখানায়। এরই মধ্যে আটটি সার কারখানার পাঁচটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কারখানাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত গ্যাসের ব্যবহার কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে এসব কারখানা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
মানবজমিনের একটি শিরোন “রাষ্ট্রের বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করছে সরকার: নাহিদ ইসলাম”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রের বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে সুকৌশলে দলীয়করণ করা হচ্ছে— যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিদেশি কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সংস্কার প্রক্রিয়ায় যে গতি থাকার কথা ছিল, তা ব্যাহত হচ্ছে। সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তা আমাদের জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে জনকল্যাণে নিয়োজিত করার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ইফতার মাহফিলে ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক, কানাডীয় হাই কমিশনার অজিত সিং, সিঙ্গাপুরের হাই কমিশনার মিশেল লি, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রেমিস সেন, অস্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনার সুসান রাইল, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি জেমস স্টেওয়ার্ট, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার ডেপুটি মোহাম্মদ ওয়াসিম, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন এরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংলি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য এফেয়ার্স বাইবা জ্যারিনা, ইউএনডিপির ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ সোনালি দয়ারত্নে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত ধর্মপালা বীরাক্কোড়ি এবং ঢাকায় জাপান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ তাকাহাসি নাউকি, নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ ললিতা, ঢাকায় জাতিসংঘের প্রতিনিধির কার্যালয়ের প্রতিনিধি এনিউ হেগোস, চীন, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, জার্মানি, ভারত, মালদ্বীপ, ব্রুনেইসহবিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন।
সারাক্ষণ ডেস্ক 



















