০৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
যুদ্ধের কৌশল বদলে পাল্টা আঘাত দিচ্ছে ইরান, বলছে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের খার্গ দ্বীপের নিরাপত্তায় নির্ভর করছে তেলের দাম  কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের ইসরায়েলের অস্ত্র আমদানি বৃদ্ধি ভোজ্যতেলের বাজার এখনো স্বাভাবিক হয়নি তেলের দাম কি ২০০ ডলারে উঠতে পারে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ১৬টি মাইন বসানো নৌযান ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র তেল ছাড়লেও থামবে না সংকট! ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন আশঙ্কা ইরানের নৌযান ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, নতুন হামলা ইসরায়েলের শিল্পপতির বাড়িতে গুলিবর্ষণ: সাজ্জাদ বাহিনীর তিন সদস্য এসএমজিসহ গ্রেপ্তার

গ্যাস সংকটে বোরো মৌসুমের শুরুতেই বন্ধ চার রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা, কৃষিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

বোরো ধান আবাদ শুরুর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গ্যাস সংকটে দেশের চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে মাত্র একটি কারখানা চালু রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কৃষিখাতে সার উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গ্যাস সংকটে চার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের শিল্পখাতেও। গ্যাসের ঘাটতির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ইউরিয়া সার কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বোরো মৌসুমে সার উৎপাদনে শঙ্কা | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের আওতায় থাকা পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে কেবল শাহজালাল সার কারখানায় উৎপাদন চলছে। বাকি চারটি কারখানা গ্যাসের অভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা, যমুনা সার কারখানা এবং আশুগঞ্জ সার ও কেমিক্যাল কোম্পানি।

এদিকে বেসরকারি খাতের কর্ণফুলী সার কোম্পানিও একই কারণে উৎপাদন স্থগিত করেছে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ছয়টি কারখানার মধ্যে পাঁচটিই এখন বন্ধ রয়েছে।

চালু আছে শুধু শাহজালাল কারখানা

বর্তমানে চালু থাকা শাহজালাল সার কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় এক হাজার তিনশত টন। সম্প্রতি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার পর কারখানাটি পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।

তবে গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে অন্য কারখানাগুলো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রাখতে পাঁচটি কারখানার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।

গ্যাস সংকটে বন্ধ ৪ ইউরিয়া কারখানা, উদ্যোগ সার আমদানির | The Daily Campus

১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ

কারখানাগুলো অন্তত ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।

এতে শিল্প ও কৃষি খাতে সার সরবরাহ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নির্দেশনা

বিশ্ব জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সরকারও জ্বালানি ব্যবহারে সতর্কতা জারি করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতে হবে এবং গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহারেও সংযমী হতে হবে। পাশাপাশি গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ রোধ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের কৌশল বদলে পাল্টা আঘাত দিচ্ছে ইরান, বলছে মার্কিন কর্মকর্তারা

গ্যাস সংকটে বোরো মৌসুমের শুরুতেই বন্ধ চার রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা, কৃষিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

০৬:২৭:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

বোরো ধান আবাদ শুরুর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গ্যাস সংকটে দেশের চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে মাত্র একটি কারখানা চালু রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কৃষিখাতে সার উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গ্যাস সংকটে চার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের শিল্পখাতেও। গ্যাসের ঘাটতির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ইউরিয়া সার কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বোরো মৌসুমে সার উৎপাদনে শঙ্কা | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের আওতায় থাকা পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে কেবল শাহজালাল সার কারখানায় উৎপাদন চলছে। বাকি চারটি কারখানা গ্যাসের অভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা, যমুনা সার কারখানা এবং আশুগঞ্জ সার ও কেমিক্যাল কোম্পানি।

এদিকে বেসরকারি খাতের কর্ণফুলী সার কোম্পানিও একই কারণে উৎপাদন স্থগিত করেছে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ছয়টি কারখানার মধ্যে পাঁচটিই এখন বন্ধ রয়েছে।

চালু আছে শুধু শাহজালাল কারখানা

বর্তমানে চালু থাকা শাহজালাল সার কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় এক হাজার তিনশত টন। সম্প্রতি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার পর কারখানাটি পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।

তবে গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে অন্য কারখানাগুলো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রাখতে পাঁচটি কারখানার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।

গ্যাস সংকটে বন্ধ ৪ ইউরিয়া কারখানা, উদ্যোগ সার আমদানির | The Daily Campus

১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ

কারখানাগুলো অন্তত ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।

এতে শিল্প ও কৃষি খাতে সার সরবরাহ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নির্দেশনা

বিশ্ব জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সরকারও জ্বালানি ব্যবহারে সতর্কতা জারি করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতে হবে এবং গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহারেও সংযমী হতে হবে। পাশাপাশি গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ রোধ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।