০২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
আফগান নারীদের পাশে মিস ইউনিভার্স ফাতিমা বোস: শিক্ষা ও সমঅধিকারের পক্ষে জোরালো আহ্বান পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে অভিযানে ২৯ জঙ্গি নিহত, দাবি ইসলামাবাদের চিন্তার দিক বদলালেই বদলে যায় জীবন সোনম ওয়াংচুকের অনশন: সারা দেশে একদিনের উপবাসে শামিল হওয়ার আহ্বান নতুন গাজার ছায়া লেবাননে: যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা কি কূটনীতিকে পরাজিত করবে? ‘না’ বলার অধিকারকে ভয় পেলে সমাজও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে ভারী বৃষ্টিতে আসাম-অরুণাচলে আকস্মিক বন্যার তাণ্ডব, ক্ষতিগ্রস্ত ২২ হাজারের বেশি মানুষ কিশোরদের জেন্ডার চিকিৎসা: রাজনীতির বদলে বিজ্ঞানের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনার সময় ইরানের পাল্টা হামলার দাবি, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, ‘প্রয়োজনে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে’

গ্যাস সংকটে বোরো মৌসুমের শুরুতেই বন্ধ চার রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা, কৃষিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

বোরো ধান আবাদ শুরুর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গ্যাস সংকটে দেশের চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে মাত্র একটি কারখানা চালু রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কৃষিখাতে সার উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গ্যাস সংকটে চার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের শিল্পখাতেও। গ্যাসের ঘাটতির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ইউরিয়া সার কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বোরো মৌসুমে সার উৎপাদনে শঙ্কা | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের আওতায় থাকা পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে কেবল শাহজালাল সার কারখানায় উৎপাদন চলছে। বাকি চারটি কারখানা গ্যাসের অভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা, যমুনা সার কারখানা এবং আশুগঞ্জ সার ও কেমিক্যাল কোম্পানি।

এদিকে বেসরকারি খাতের কর্ণফুলী সার কোম্পানিও একই কারণে উৎপাদন স্থগিত করেছে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ছয়টি কারখানার মধ্যে পাঁচটিই এখন বন্ধ রয়েছে।

চালু আছে শুধু শাহজালাল কারখানা

বর্তমানে চালু থাকা শাহজালাল সার কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় এক হাজার তিনশত টন। সম্প্রতি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার পর কারখানাটি পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।

তবে গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে অন্য কারখানাগুলো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রাখতে পাঁচটি কারখানার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।

গ্যাস সংকটে বন্ধ ৪ ইউরিয়া কারখানা, উদ্যোগ সার আমদানির | The Daily Campus

১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ

কারখানাগুলো অন্তত ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।

এতে শিল্প ও কৃষি খাতে সার সরবরাহ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নির্দেশনা

বিশ্ব জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সরকারও জ্বালানি ব্যবহারে সতর্কতা জারি করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতে হবে এবং গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহারেও সংযমী হতে হবে। পাশাপাশি গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ রোধ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান নারীদের পাশে মিস ইউনিভার্স ফাতিমা বোস: শিক্ষা ও সমঅধিকারের পক্ষে জোরালো আহ্বান

গ্যাস সংকটে বোরো মৌসুমের শুরুতেই বন্ধ চার রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা, কৃষিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

০৬:২৭:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

বোরো ধান আবাদ শুরুর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গ্যাস সংকটে দেশের চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে মাত্র একটি কারখানা চালু রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কৃষিখাতে সার উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গ্যাস সংকটে চার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের শিল্পখাতেও। গ্যাসের ঘাটতির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ইউরিয়া সার কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বোরো মৌসুমে সার উৎপাদনে শঙ্কা | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের আওতায় থাকা পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে কেবল শাহজালাল সার কারখানায় উৎপাদন চলছে। বাকি চারটি কারখানা গ্যাসের অভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা, যমুনা সার কারখানা এবং আশুগঞ্জ সার ও কেমিক্যাল কোম্পানি।

এদিকে বেসরকারি খাতের কর্ণফুলী সার কোম্পানিও একই কারণে উৎপাদন স্থগিত করেছে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ছয়টি কারখানার মধ্যে পাঁচটিই এখন বন্ধ রয়েছে।

চালু আছে শুধু শাহজালাল কারখানা

বর্তমানে চালু থাকা শাহজালাল সার কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় এক হাজার তিনশত টন। সম্প্রতি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার পর কারখানাটি পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।

তবে গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে অন্য কারখানাগুলো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রাখতে পাঁচটি কারখানার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।

গ্যাস সংকটে বন্ধ ৪ ইউরিয়া কারখানা, উদ্যোগ সার আমদানির | The Daily Campus

১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ

কারখানাগুলো অন্তত ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।

এতে শিল্প ও কৃষি খাতে সার সরবরাহ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নির্দেশনা

বিশ্ব জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সরকারও জ্বালানি ব্যবহারে সতর্কতা জারি করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতে হবে এবং গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহারেও সংযমী হতে হবে। পাশাপাশি গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ রোধ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।