মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ার মধ্যে ইউরোপে আবারও তেল ও গ্যাস সরবরাহে আগ্রহ দেখিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউরোপীয় ক্রেতারা যদি দীর্ঘমেয়াদি ও রাজনৈতিক চাপমুক্ত সহযোগিতায় ফিরতে চায়, তাহলে মস্কো আবারও তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
সোমবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বৈঠকে রাশিয়ার শীর্ষ জ্বালানি কোম্পানির প্রধানদের সামনে এ কথা বলেন পুতিন। তিনি ইঙ্গিত দেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাশিয়া নতুন সুযোগ দেখছে।
হরমুজ সংকটে বাজারে নতুন চাপ
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি হয়ে জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি রুটে বিঘ্নের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে পুতিন বলেন, ইউরোপ যদি আবার রাশিয়ার সঙ্গে স্থিতিশীল জ্বালানি সহযোগিতায় ফিরতে চায়, তবে মস্কো তা বিবেচনায় নিতে প্রস্তুত।
চার বছরে রাশিয়া-নির্ভরতা অনেক কমিয়েছে ইউরোপ
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় দেশগুলো ধাপে ধাপে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২২ সালে সমুদ্রপথে রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই সঙ্গে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে রুশ জ্বালানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় পশ্চিমা দেশগুলো।
ফলে গত চার বছরে ইউরোপীয় বাজারে রাশিয়ার অবস্থান অনেক দুর্বল হয়েছে। যুদ্ধের আগে ইউরোপ রাশিয়ার গ্যাসের বড় ক্রেতা ছিল, কিন্তু এখন সেই নির্ভরতা অনেক কমে গেছে।
তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এতে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোও বাড়তি দামের প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে, যদিও তারা এখনো জরুরি মজুত ছাড়ার বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দেয়নি।
ইউরোপ হারিয়ে এশিয়ায় ডিসকাউন্টে বিক্রি রাশিয়ার
ইউরোপীয় বাজার সংকুচিত হয়ে যাওয়ার পর রাশিয়া বাধ্য হয়ে এশিয়ার দেশগুলোতে ছাড়মূল্যে তেল ও গ্যাস বিক্রি বাড়িয়েছে। ফলে মস্কোর জন্য ইউরোপে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের আলোচনা শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন করে কি পথ খুলবে?
পুতিনের এই বক্তব্যকে তাৎক্ষণিক নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা হিসেবে দেখা না গেলেও এটি স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটকে রাশিয়া কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞার বাস্তবতা বিবেচনায় কতটা সাড়া দেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















