০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
লিফটের বিধিনিষেধ কীভাবে আমেরিকার আবাসন বাজারে জটিলতা তৈরি করছে গরুর বুদ্ধির চমক! ঝাড়ু ব্যবহার করে নিজেই চুলকানি মেটায় ‘ভেরোনিকা’ গাজায় যুদ্ধের নতুন ছায়া: থমকে গেছে পুর্ণগঠন,আবার শক্তি বাড়াচ্ছে হামাস রঙ বদলে লুকিয়ে থাকা সমুদ্রের ক্ষুদে শিকারি: ক্যান্ডি কাঁকড়ার বিস্ময়কর জীবন কোন দেশে সবচেয়ে বেশি আত্মমুগ্ধ মানুষ? বিশ্বজুড়ে জরিপে চমকপ্রদ ফল কমেডি দুনিয়ায় বড় প্রত্যাবর্তন: নতুন সিরিজ ‘রেজি ডিঙ্কিন্স’ ফিরিয়ে আনছে ত্রিশ রকের সেই ঝড় আমেরিকার ‘রাজপরিবার’ কাহিনি: কেনেডি প্রেমগাথা সিরিজে বাস্তবের চেয়ে নাটকই বেশি? ওজন কমানোর বড়ি: চিকিৎসায় নতুন যুগ নাকি নতুন ঝুঁকি? মানুষের রক্তেই ঝুঁকছে মশা! বন ধ্বংসে বাড়ছে নতুন বিপদ রোজার রাতে আমিরাতের ‘ঘাবগা’ ঐতিহ্য: পরিবার-বন্ধুদের মিলনে ভরে ওঠে রাত

চীনের ২০৩০ সালের চন্দ্রাভিযান: নাসার নজরে থাকা এলাকাকেই সম্ভাব্য অবতরণস্থল বলছেন বিজ্ঞানীরা

চীনের পরিকল্পিত ২০৩০ সালের মানববাহী চন্দ্রাভিযানের জন্য সম্ভাব্য অবতরণস্থল হিসেবে চাঁদের নিকটপৃষ্ঠের রিমাই বোডে অঞ্চলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এই অঞ্চলটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সঙ্গে মহাকাশচারীদের নিরাপদ অবতরণ ও চলাচলের জন্যও উপযোগী।

চাঁদের আগ্নেয়গিরি সম্পর্কিত গবেষণার জন্য এ অঞ্চল থেকে নানা ধরনের ভূতাত্ত্বিক নমুনা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে তৈরি ধ্বংসাবশেষ। পাশাপাশি এলাকাটির ভূমি তুলনামূলক সমতল হওয়ায় সেখানে নিরাপদে অবতরণ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

China unveils plans to land astronauts on the moon by 2030

কেন রিমাই বোডে অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ

বিজ্ঞানীরা জানান, রিমাই বোডে অঞ্চলটি চাঁদের নিকটপৃষ্ঠে এবং নিম্ন অক্ষাংশে অবস্থিত। ফলে পৃথিবী থেকে সেখানে পৌঁছানো তুলনামূলক সহজ। একই সঙ্গে এলাকাটির ভূমি বেশ সমতল ও চলাচলের উপযোগী, যা মহাকাশচারীদের অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সুবিধা দেবে।

সোমবার পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমিতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, এই অঞ্চলের উচ্চ বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব এবং অনুকূল অবতরণ পরিস্থিতি একে ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় করে তুলেছে।

নাসার পুরোনো পরিকল্পনার সঙ্গেও মিল

China on track for crewed moon landing by 2030, space official says -  SpaceNews

গবেষণায় বলা হয়েছে, রিমাই বোডে অঞ্চলটি আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার নজরে ছিল। নাসার কনস্টেলেশন কর্মসূচির সময়ও এই এলাকাকে সম্ভাব্য অবতরণস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

২০০৫ সালে নাসা কনস্টেলেশন কর্মসূচি চালু করে। এর লক্ষ্য ছিল আবারও চাঁদে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া। তবে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে ২০১০ সালে এই কর্মসূচি বাতিল হয়ে যায়।

কর্মসূচি বাতিলের কয়েক মাস আগে নাসা একটি কাছ থেকে তোলা ছবি প্রকাশ করেছিল। সেখানে রিমা বোডে ২ এলাকার কাছাকাছি উচ্চভূমিতে প্রায় ২৩০ মিটার প্রশস্ত একটি নতুন গর্ত দেখা যায়। ওই গর্তের চারপাশে গাঢ় রঙের পদার্থ ছড়িয়ে ছিল, যা সাধারণত উল্কাপাত বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক গবেষণায় এই এলাকাটিকেও সম্ভাব্য চারটি অবতরণস্থলের একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

China says it's on track to land astronauts on the moon by 2030 | AP News

নতুন গবেষণায় কীভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে

সাম্প্রতিক গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন উহানের চায়না ইউনিভার্সিটি অব জিওসায়েন্সেস, গুইলিন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, চীনা বিজ্ঞান একাডেমি এবং জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা।

তারা চাঁদের কক্ষপথে ঘুরতে থাকা মহাকাশযান থেকে তোলা ছবি ও বিভিন্ন পরিমাপ ব্যবহার করে রিমাই বোডে অঞ্চলের নির্দিষ্ট অংশ বিশ্লেষণ করেছেন। এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা সম্ভাব্য অবতরণস্থল, গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণার লক্ষ্যবস্তু এবং পৃষ্ঠের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছেন।

গবেষকদের মতে, বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব এবং নিরাপদ অবতরণ ও অনুসন্ধানের সুবিধা—এই দুই দিক থেকেই রিমাই বোডে অঞ্চল ভবিষ্যতের মানববাহী চন্দ্রাভিযানের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি স্থান।

জনপ্রিয় সংবাদ

লিফটের বিধিনিষেধ কীভাবে আমেরিকার আবাসন বাজারে জটিলতা তৈরি করছে

চীনের ২০৩০ সালের চন্দ্রাভিযান: নাসার নজরে থাকা এলাকাকেই সম্ভাব্য অবতরণস্থল বলছেন বিজ্ঞানীরা

০৫:২৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

চীনের পরিকল্পিত ২০৩০ সালের মানববাহী চন্দ্রাভিযানের জন্য সম্ভাব্য অবতরণস্থল হিসেবে চাঁদের নিকটপৃষ্ঠের রিমাই বোডে অঞ্চলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এই অঞ্চলটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সঙ্গে মহাকাশচারীদের নিরাপদ অবতরণ ও চলাচলের জন্যও উপযোগী।

চাঁদের আগ্নেয়গিরি সম্পর্কিত গবেষণার জন্য এ অঞ্চল থেকে নানা ধরনের ভূতাত্ত্বিক নমুনা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে তৈরি ধ্বংসাবশেষ। পাশাপাশি এলাকাটির ভূমি তুলনামূলক সমতল হওয়ায় সেখানে নিরাপদে অবতরণ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

China unveils plans to land astronauts on the moon by 2030

কেন রিমাই বোডে অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ

বিজ্ঞানীরা জানান, রিমাই বোডে অঞ্চলটি চাঁদের নিকটপৃষ্ঠে এবং নিম্ন অক্ষাংশে অবস্থিত। ফলে পৃথিবী থেকে সেখানে পৌঁছানো তুলনামূলক সহজ। একই সঙ্গে এলাকাটির ভূমি বেশ সমতল ও চলাচলের উপযোগী, যা মহাকাশচারীদের অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সুবিধা দেবে।

সোমবার পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমিতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, এই অঞ্চলের উচ্চ বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব এবং অনুকূল অবতরণ পরিস্থিতি একে ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় করে তুলেছে।

নাসার পুরোনো পরিকল্পনার সঙ্গেও মিল

China on track for crewed moon landing by 2030, space official says -  SpaceNews

গবেষণায় বলা হয়েছে, রিমাই বোডে অঞ্চলটি আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার নজরে ছিল। নাসার কনস্টেলেশন কর্মসূচির সময়ও এই এলাকাকে সম্ভাব্য অবতরণস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

২০০৫ সালে নাসা কনস্টেলেশন কর্মসূচি চালু করে। এর লক্ষ্য ছিল আবারও চাঁদে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া। তবে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে ২০১০ সালে এই কর্মসূচি বাতিল হয়ে যায়।

কর্মসূচি বাতিলের কয়েক মাস আগে নাসা একটি কাছ থেকে তোলা ছবি প্রকাশ করেছিল। সেখানে রিমা বোডে ২ এলাকার কাছাকাছি উচ্চভূমিতে প্রায় ২৩০ মিটার প্রশস্ত একটি নতুন গর্ত দেখা যায়। ওই গর্তের চারপাশে গাঢ় রঙের পদার্থ ছড়িয়ে ছিল, যা সাধারণত উল্কাপাত বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক গবেষণায় এই এলাকাটিকেও সম্ভাব্য চারটি অবতরণস্থলের একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

China says it's on track to land astronauts on the moon by 2030 | AP News

নতুন গবেষণায় কীভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে

সাম্প্রতিক গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন উহানের চায়না ইউনিভার্সিটি অব জিওসায়েন্সেস, গুইলিন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, চীনা বিজ্ঞান একাডেমি এবং জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা।

তারা চাঁদের কক্ষপথে ঘুরতে থাকা মহাকাশযান থেকে তোলা ছবি ও বিভিন্ন পরিমাপ ব্যবহার করে রিমাই বোডে অঞ্চলের নির্দিষ্ট অংশ বিশ্লেষণ করেছেন। এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা সম্ভাব্য অবতরণস্থল, গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণার লক্ষ্যবস্তু এবং পৃষ্ঠের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছেন।

গবেষকদের মতে, বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব এবং নিরাপদ অবতরণ ও অনুসন্ধানের সুবিধা—এই দুই দিক থেকেই রিমাই বোডে অঞ্চল ভবিষ্যতের মানববাহী চন্দ্রাভিযানের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি স্থান।