০১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
আইএমএফের হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ২৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার ময়মনসিংহে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে বেড়েই চলেছে আক্রান্তের চাপ সন্তানদের বিনিয়োগ শেখাতে ৫ হাজার ডলার, পপির সহপ্রতিষ্ঠাতার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ট্রাম্প-শি বৈঠক ঘিরে তাইওয়ানের শঙ্কা, ‘চমক’ এড়াতে চায় তাইপে ভোটার তালিকা বিতর্কেই কি বদলে গেল বাংলা? শশী থারুরের মন্তব্যে নতুন রাজনৈতিক ঝড় মোদির ‘ত্যাগের ডাক’ ঘিরে রাজনৈতিক ঝড়, পাল্টা আক্রমণে রাহুল গান্ধী হামে বাড়ছে মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ প্রাণহানি রাশফোর্ডের জাদুতে রিয়ালকে হারিয়ে বার্সেলোনার শিরোপা উৎসব দুয়া লিপার ছবি ব্যবহার করে বিপাকে স্যামসাং, ১৫ মিলিয়ন ডলারের মামলা গায়িকার শ্রীলঙ্কায় প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষুর বিরুদ্ধে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের ঘটনায় তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর ইরান সংকট, তবু নীরব ব্রিকস—কেন একসুরে কথা বলতে পারছে না জোটটি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু নিজেদেরকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরা ব্রিকস জোট এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো যৌথ বিবৃতি দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, জোটের সম্প্রসারণ যত দ্রুত হয়েছে, একক অবস্থান নেওয়ার ক্ষমতা ততটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের নিন্দা

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় পৃথকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কয়েকটি ব্রিকস সদস্য দেশ। চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিল এই হামলার নিন্দা করেছে। তবে ব্রিকস জোট হিসেবে এখনো পর্যন্ত কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সংকট তৈরি হয়েছে। ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ব্রিকসের নীরবতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

BRICS in Crisis: Member Struck, But the Bloc Stayed Silent

ব্রিকসের নীরবতার কারণ কী

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের এই নীরবতা কোনো ভুল বা অনিচ্ছাকৃত ঘটনা নয়। বরং এটি এমন একটি জোটের বাস্তবতা, যার সদস্যসংখ্যা দ্রুত বেড়েছে কিন্তু ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার সক্ষমতা একই গতিতে বাড়েনি।

ব্রিকস দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতিতে বহুমেরু ব্যবস্থার পক্ষে কথা বলে আসছে। সেই লক্ষ্যেই জোটটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়।

সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত

ব্রিকস যখন ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সৌদি আরবকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, তখন এটিকে বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সম্প্রসারণকে অনেকেই জোটটির শক্তি বৃদ্ধির মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।

Middle East: USA, Iran and USA

ভিন্নমুখী স্বার্থে বিভক্ত সদস্যরা

তবে বর্তমান সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, জোটের নতুন সদস্যদের স্বার্থ অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরবিরোধী।

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে পড়ার পর প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ ও স্থাপনা। এমনকি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ফলে ব্রিকসের ভেতরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সদস্য দেশগুলো একই ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়ে পড়েছে। এই বিভাজনের কারণেই জোটটি এখন পর্যন্ত একটি অভিন্ন বক্তব্য দিতে পারছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইএমএফের হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ২৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর ইরান সংকট, তবু নীরব ব্রিকস—কেন একসুরে কথা বলতে পারছে না জোটটি

০৫:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু নিজেদেরকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরা ব্রিকস জোট এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো যৌথ বিবৃতি দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, জোটের সম্প্রসারণ যত দ্রুত হয়েছে, একক অবস্থান নেওয়ার ক্ষমতা ততটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের নিন্দা

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় পৃথকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কয়েকটি ব্রিকস সদস্য দেশ। চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিল এই হামলার নিন্দা করেছে। তবে ব্রিকস জোট হিসেবে এখনো পর্যন্ত কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সংকট তৈরি হয়েছে। ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ব্রিকসের নীরবতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

BRICS in Crisis: Member Struck, But the Bloc Stayed Silent

ব্রিকসের নীরবতার কারণ কী

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের এই নীরবতা কোনো ভুল বা অনিচ্ছাকৃত ঘটনা নয়। বরং এটি এমন একটি জোটের বাস্তবতা, যার সদস্যসংখ্যা দ্রুত বেড়েছে কিন্তু ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার সক্ষমতা একই গতিতে বাড়েনি।

ব্রিকস দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতিতে বহুমেরু ব্যবস্থার পক্ষে কথা বলে আসছে। সেই লক্ষ্যেই জোটটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়।

সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত

ব্রিকস যখন ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সৌদি আরবকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, তখন এটিকে বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সম্প্রসারণকে অনেকেই জোটটির শক্তি বৃদ্ধির মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।

Middle East: USA, Iran and USA

ভিন্নমুখী স্বার্থে বিভক্ত সদস্যরা

তবে বর্তমান সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, জোটের নতুন সদস্যদের স্বার্থ অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরবিরোধী।

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে পড়ার পর প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ ও স্থাপনা। এমনকি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ফলে ব্রিকসের ভেতরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সদস্য দেশগুলো একই ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়ে পড়েছে। এই বিভাজনের কারণেই জোটটি এখন পর্যন্ত একটি অভিন্ন বক্তব্য দিতে পারছে না।