যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু নিজেদেরকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরা ব্রিকস জোট এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো যৌথ বিবৃতি দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, জোটের সম্প্রসারণ যত দ্রুত হয়েছে, একক অবস্থান নেওয়ার ক্ষমতা ততটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের নিন্দা
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় পৃথকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কয়েকটি ব্রিকস সদস্য দেশ। চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিল এই হামলার নিন্দা করেছে। তবে ব্রিকস জোট হিসেবে এখনো পর্যন্ত কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সংকট তৈরি হয়েছে। ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ব্রিকসের নীরবতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ব্রিকসের নীরবতার কারণ কী
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের এই নীরবতা কোনো ভুল বা অনিচ্ছাকৃত ঘটনা নয়। বরং এটি এমন একটি জোটের বাস্তবতা, যার সদস্যসংখ্যা দ্রুত বেড়েছে কিন্তু ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার সক্ষমতা একই গতিতে বাড়েনি।
ব্রিকস দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতিতে বহুমেরু ব্যবস্থার পক্ষে কথা বলে আসছে। সেই লক্ষ্যেই জোটটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়।
সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত
ব্রিকস যখন ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সৌদি আরবকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, তখন এটিকে বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সম্প্রসারণকে অনেকেই জোটটির শক্তি বৃদ্ধির মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।

ভিন্নমুখী স্বার্থে বিভক্ত সদস্যরা
তবে বর্তমান সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, জোটের নতুন সদস্যদের স্বার্থ অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরবিরোধী।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে পড়ার পর প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ ও স্থাপনা। এমনকি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ফলে ব্রিকসের ভেতরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সদস্য দেশগুলো একই ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়ে পড়েছে। এই বিভাজনের কারণেই জোটটি এখন পর্যন্ত একটি অভিন্ন বক্তব্য দিতে পারছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















