ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও মোজতবা খামেনি এখনও জনসমক্ষে আসেননি বা কোনো বক্তব্য দেননি। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সাম্প্রতিক হামলায় আহত হওয়ার কারণে তিনি নীরব রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি কর্মকর্তারা।
নতুন নেতৃত্বে মোজতবা খামেনি
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি সোমবার তার নিহত পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি এখনও কোনো ভিডিও বার্তা দেননি, প্রকাশ্যে উপস্থিত হননি এবং লিখিত কোনো বিবৃতিও প্রকাশ করেননি।
এই অস্বাভাবিক নীরবতা ইরানসহ আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাধারণত এমন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর নতুন নেতা দ্রুত জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেন বা কোনো আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি জানান।

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ
তিনজন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার নীরবতার প্রধান কারণ নিরাপত্তা। তাদের মতে, যদি তিনি ভিডিও বার্তা বা অন্য কোনো যোগাযোগ করেন, তাহলে তা থেকে তার অবস্থান শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। তাই তার অবস্থান গোপন রাখাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
হামলার দিনেই আহত হওয়ার দাবি
একই সূত্র আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই মোজতবা খামেনি আহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই তাকে কঠোর নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিই সম্ভবত তাকে প্রকাশ্যে না আসার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনিশ্চয়তার মধ্যে ইরান
নতুন নেতৃত্বের সূচনাতেই এমন পরিস্থিতি ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দেশের সর্বোচ্চ নেতা দায়িত্ব নেওয়ার পরও জনসমক্ষে না আসায় পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ছে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেই মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে আসতে পারেন এবং দেশের জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে পারেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















