লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও আশপাশের এলাকায় ইসরায়েল নতুন করে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত চলা এই হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান এই হামলা অভিযানের কারণে ইতিমধ্যে প্রায় আট লাখ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
বৈরুতে আতঙ্ক ও বিস্ফোরণের শব্দ
বুধবার রাত থেকে বৈরুতের আকাশে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈরুতের রামলেত আল বাইদা এলাকায় একটি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২১ জন।
হামলার পর প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, সমুদ্রতীরবর্তী একটি সড়কের ওপর থেকে ধোঁয়া উঠছে। এই এলাকায় মূলত আশ্রয় নিয়েছিলেন লেবাননের অন্য অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি হামলার ভয়ে পালিয়ে আসা বহু মানুষ।

দাহিয়া এলাকায় ব্যাপক হামলা
রাতভর চালানো অন্য হামলাগুলোর বেশিরভাগই বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠের দাহিয়া এলাকায় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অঞ্চলটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে ইরান সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল এলা ওয়াওয়েয়া এক বিবৃতিতে জানান, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত লেবাননে দুই ডজনেরও বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।
লেবাননের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই বোমা হামলায় এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বুধবার রাতে দাহিয়া এলাকায় হামলায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।
সংঘাতের পটভূমি
গত সপ্তাহে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ শুরু করে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়।
এর জবাবে ইসরায়েল দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে দাহিয়া এলাকাকে তারা সংগঠনটির অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ ইরানের পক্ষে থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা ওই অঞ্চলে আঘাত হেনেছে।

হামলার বিস্তার বৈরুতের অন্য এলাকাতেও
শুধু দাহিয়া নয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বৈরুতের আরও বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মধ্যে শহরের ভেতরে বা কাছাকাছি দুটি হোটেলও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এর একটি হোটেলে আশ্রয় নিয়েছিলেন যুদ্ধের কারণে ঘরছাড়া পরিবারগুলো। অন্য হোটেলটিতে ইরানি কর্মকর্তারা বৈঠক করছিলেন বলে ইসরায়েলের দাবি।
বুধবার সকালে বৈরুতের কেন্দ্রীয় এলাকায় একটি আবাসিক ভবনেও হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত চারজন আহত হন। বিস্ফোরণের ফলে ভবনের ধ্বংসাবশেষ ও লোহার কাঠামো রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে।
হিজবুল্লাহর পাল্টা প্রতিক্রিয়া
এই হামলার পর হিজবুল্লাহ ঘোষণা দেয়, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে রকেট হামলা চালাবে।
তবে ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, ওই রকেট হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















