মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দুটি বড় স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স বা স্যাটেলাইট তথ্যপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ওই অঞ্চলের স্যাটেলাইট ছবিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই দুই প্রতিষ্ঠান হলো প্ল্যানেট ল্যাবস এবং ভ্যান্টর।
প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নিতে তাদের কোনো সরকার সরাসরি নির্দেশ দেয়নি। তবে পরিস্থিতির নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তারা নিজেরাই এই ব্যবস্থা নিয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বুধবার কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
কেন সীমিত করা হলো স্যাটেলাইট ছবি
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্ল্যানেট ল্যাবস, যার কক্ষপথে ২০০টিরও বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে, তাদের গ্রাহকদের পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যের নতুন স্যাটেলাইট ছবি যাতে প্রতিপক্ষ কোনো সামরিক বা কৌশলগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা তাদের তথাকথিত “এরিয়া অব ইন্টারেস্ট” বা আগ্রহের অঞ্চল সম্প্রসারণ করেছে। এর আওতায় এখন পুরো ইরান, তার আশপাশের মিত্র ঘাঁটি, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং চলমান সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্ল্যানেট ল্যাবস জানায়, ওই অঞ্চল থেকে সংগৃহীত নতুন স্যাটেলাইট ছবি তাদের বাণিজ্যিক আর্কাইভে দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হবে। এর আগে গত সপ্তাহেও তারা চার দিনের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলো, ইরাক, কুয়েত এবং সংলগ্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের নতুন ছবি প্রকাশে বিলম্ব করেছিল।
কোম্পানিটি জানায়, এই সিদ্ধান্ত তারা সরকার ও সরকারের বাইরের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করেই নিয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো সরকার বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই পরিবর্তন আনা হয়নি।

ভ্যান্টরের পদক্ষেপ
স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণকারী আরেক প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরও নিশ্চিত করেছে যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশের স্যাটেলাইট ছবিতে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র টমি ম্যাক্সটেড এক ইমেইল বার্তায় বলেন, ভূরাজনৈতিক সংঘাতের সময় সংবেদনশীল ভৌগোলিক তথ্যের অপব্যবহার ঠেকাতে এবং মিত্র বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এসব নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে পারে—কারা নতুন স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করতে পারবে কিংবা অতীতের ছবি কিনতে পারবে, সে বিষয়ে সীমাবদ্ধতা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো বা তাদের মিত্র বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে কিংবা যেসব অঞ্চল প্রতিপক্ষের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, সেখানে এই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়।
ম্যাক্সটেড বলেন, এই সিদ্ধান্ত ভ্যান্টর তাদের নিজস্ব নীতিমালা ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চার অংশ হিসেবে স্বাধীনভাবে নেয়। কোনো সরকার, সামরিক সংস্থা বা তৃতীয় পক্ষ তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেনি।
এর আগেও এমন পদক্ষেপ
এর আগে ইসরায়েল-গাজা সংঘাত চলাকালে ২০২৩ সালে প্ল্যানেট ল্যাবস গাজার উচ্চ রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশে বিলম্ব করেছিল।
বর্তমান ইরান সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভ্যান্টর ও প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করেছে। এসব ছবিতে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের বিদ্যালয়ের আশপাশে হামলার ক্ষয়ক্ষতি, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটির অবস্থা এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
তবে ভ্যান্টর জানিয়েছে, তাদের নিউজ ব্যুরো কর্মসূচির মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করা ছবিতে কোনো বিলম্ব আরোপ করা হবে না। পাশাপাশি তারা উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো বা তাদের মিত্র বাহিনীর অবস্থান বা মোতায়েন সংক্রান্ত কোনো ছবি তারা কখনো সংবাদমাধ্যমকে দেয়নি।
এই প্রতিবেদনে অতিরিক্ত তথ্য দিয়েছেন এলিস স্যামুয়েলস।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















