ইরানের একটি জুনিয়র স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসছে। প্রাথমিক মার্কিন সামরিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, পুরোনো বা অপ্রচলিত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করার কারণেই এই প্রাণঘাতী হামলা ঘটতে পারে। নিহতদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে।
সংঘাতের শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল সম্পর্কে অবগত আরেকজন সূত্র জানিয়েছেন, পুরোনো তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণ করায় এই মর্মান্তিক ভুল ঘটতে পারে।

যুদ্ধের অন্যতম আলোচিত ঘটনা
স্কুলে বোমা হামলা এবং এতে বহু শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে আলোচিত ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে। তদন্তে যদি শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয় যে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী, তবে গত দুই দশকে মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
ট্রাম্পের অবস্থানের পরিবর্তন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে এই হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করেছিলেন। পরে তিনি জানান, কে দায়ী সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এরপর তিনি বলেন, পেন্টাগনের তদন্তের ফলাফলই তিনি মেনে নেবেন।
বুধবার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়, যখন নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম জানায় যে প্রাথমিক তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের দায় থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পুরোনো তথ্যের ভিত্তিতে হামলা
প্রাথমিক তদন্তের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে যে স্থানাঙ্ক ব্যবহার করেছিল, তা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া পুরোনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ছিল। সেই তথ্য হালনাগাদ না থাকায় ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
তদন্ত এখনো চলছে
এই প্রাথমিক তথ্য প্রকাশের পর পেন্টাগনের কাছে আরও বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার দাবি উঠেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এই হামলায় নিহতদের স্মরণে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষ শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছে। ঘটনাটি ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















