ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাসোলিনের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগে যেখানে কম জ্বালানি দামের সাফল্য নিয়ে গর্ব করতেন, এখন সেখানে তেলের উচ্চমূল্যকে ইতিবাচক বলে তুলে ধরছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও তার দলের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং জনমতও তার বিপক্ষে যেতে পারে।
ইরান সংঘাতের প্রভাব
ইরানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে।
একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী বহু ট্যাংকার এবং মালবাহী জাহাজ সেখানে আটকে আছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ভিড়
সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান উপকূল থেকে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার ও কার্গো জাহাজ সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে। নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা না থাকায় অনেক জাহাজই তাদের যাত্রা বিলম্বিত করছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন
এই পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।
কিন্তু তার এই বক্তব্য আগের অবস্থানের সঙ্গে স্পষ্ট বিরোধ তৈরি করেছে। মাত্র এক মাস আগে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ২ ডলার ৩০ সেন্টে নেমে আসার কথা উল্লেখ করে তা নিজের প্রশাসনের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
এখন সেই দাম দ্রুত বেড়ে জাতীয় গড়ে গ্যালনপ্রতি প্রায় ৩ ডলার ৬০ সেন্টে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে অটোমোবাইল সংস্থা এএএ।

নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য দ্বিমুখী চাপ তৈরি করেছে। একদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান দেখানোর চেষ্টা, অন্যদিকে দেশের ভেতরে বাড়তি জ্বালানি দামের কারণে ভোটারদের অসন্তোষ বাড়ছে।
নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়া সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে, যা নির্বাচনের সময় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















