ইরানের ঐতিহাসিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর অনেকের কাছে শুধু একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ হলেও, নিউইয়র্কে বসবাসরত ৩৫ বছর বয়সী ইরানি–আমেরিকান শাবনাম এমদাদির জন্য এটি গভীর ব্যক্তিগত বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসফাহানের সাফাভিদ আমলের বিখ্যাত চেহেল সুতুন প্রাসাদের ক্ষতির খবর তাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে তার জীবনের স্মৃতিময় কিছু মুহূর্তে।
ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক স্থান
শাবনাম এমদাদি জানান, কয়েক বছর আগে তার বাবার মৃত্যুর আগে তিনি বাবার সঙ্গে ইরান সফরে গিয়ে এই প্রাসাদটি ঘুরে দেখেছিলেন। সেই সফর তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে আছে।
তিনি বলেন, বাবার সঙ্গে ইরান ভ্রমণের সেই মুহূর্তগুলোতেই তিনি তাকে সবচেয়ে সুখী দেখেছিলেন। নিজের দেশ ও সংস্কৃতির মধ্যে থাকলে তার বাবা যেন সত্যিকারের প্রাণ ফিরে পেতেন।
এমদাদির ভাষায়, বাবার সঙ্গে সেই ভ্রমণের স্মৃতিই তার কাছে সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতি। কিন্তু এখন যখন তিনি ঐতিহাসিক স্থানগুলোর ক্ষতির খবর দেখেন, তখন মনে হয় যেন তার বাবার স্মৃতিরও একটি অংশ হারিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন এসব স্থানের ক্ষয়ক্ষতির ছবি বা খবর দেখলে তার মনে হয় যেন ব্যক্তিগতভাবে কিছু হারিয়ে ফেলছেন।

ইউনেস্কো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনায় ক্ষতির অভিযোগ
ইরানের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলা বা ক্ষতির অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি সম্পর্কে তারা অবগত নয়।
এই পরিস্থিতিতে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। অনেকের মতে, যুদ্ধ বা সামরিক উত্তেজনার সময় এসব অমূল্য ঐতিহ্য রক্ষা করা বৈশ্বিক দায়িত্বের অংশ হওয়া উচিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















