যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক হামলার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ইরান এখন ভিন্ন কৌশলে পাল্টা চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে ফেলে তেলের দাম বাড়ানো এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে ধাক্কা দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চাইছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উত্তেজনা
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি ইরান এখন অর্থনৈতিক চাপের কৌশল ব্যবহার করছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার হুমকি, ইরাকের একটি বন্দরে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা এবং প্রণালিতে নৌমাইন পেতে রাখা—এসব পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি শুধু জ্বালানি বাজারকেই অস্থির করেনি, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতি কমিয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে ইরান দেখাতে চাইছে যে যুদ্ধের মধ্যেও তাদের এমন কিছু কৌশলগত শক্তি রয়েছে, যা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত থেকে নিরুৎসাহিত করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি
ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সামরিক পরিকল্পনা করতে হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীকে সম্ভাব্য নৌ-এস্কর্ট দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
একই সঙ্গে প্রণালিতে পাতা মাইন অপসারণের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও করছে ওয়াশিংটন। এদিকে মার্কিন বাহিনী ইরানের অবশিষ্ট নৌ সক্ষমতা, বিশেষ করে মাইন পাতা জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
নতুন সর্বোচ্চ নেতার কঠোর বার্তা
বৃহস্পতিবার ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালিকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা অব্যাহত থাকবে।
যুদ্ধে শুরুতেই বিমান হামলায় নিহত হওয়া তার পিতার উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বক্তব্যে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার সম্ভাবনাকে একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা অব্যাহত রাখতে হবে।

যুদ্ধের বৃহত্তর কৌশল
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চাইছে—দুর্বল অবস্থায় থাকলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উল্লেখযোগ্য সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি তৈরি করতে সক্ষম।
এই বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ করা হবে, এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে—এসব প্রশ্ন এখন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক ও পারস্য উপসাগরীয় নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক কেইটলিন ট্যালম্যাজ বলেন, এই যুদ্ধ কেবল বর্তমান সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর লক্ষ্য ভবিষ্যতের যুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠন করা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















