যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের চলমান যুদ্ধে ১৩তম দিনে সংঘাত আরও অস্থির এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে মনে হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্র এখন কেবল বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং ইরানের ভেতর থেকেই তাকে দুর্বল করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণে তেলের প্রবাহ কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আবারও স্পষ্ট করে তুলছে।
ইরানি পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেলআবিব এখন এমন একটি কৌশল পরীক্ষা করছে যেখানে বাইরের সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। তেহরানের ভেতরে বাসিজ নিরাপত্তা অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাকে অনেকেই সেই কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এর উদ্দেশ্য ছিল সরকারের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে দুর্বল করা এবং দেখার চেষ্টা করা যে দেশের ভেতরের অস্থিরতা কি চলমান সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পূর্বের যুদ্ধের কৌশলের পুনরাবৃত্তি
এই পদ্ধতির সঙ্গে ২০২৫ সালের জুন মাসে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের কৌশলের মিল পাওয়া যায়। তখনও ইসরায়েলি পরিকল্পনায় ইরানের ভেতরে বিদ্রোহ উসকে দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। নির্ভুল হামলা ও সমন্বিত তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সরকারের ভেতরের ঐক্য ভাঙা এবং রাস্তায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাশিতভাবে সফল হয়নি।

বর্তমান যুদ্ধও শুরু হয়েছিল নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলার মাধ্যমে। নির্ভুল আঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। ধারণা ছিল এতে দ্রুত ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে ফল হয়েছে উল্টো। জাতীয় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে জনমত ও নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত সরকারের পাশে দাঁড়ায়, ফলে শাসন পরিবর্তনের সম্ভাব্য সময়সূচি ভেস্তে যায়।
ইরানের পাল্টা কৌশল
বাহ্যিক আক্রমণের জবাবে ইরান অসম শক্তির কৌশল গ্রহণ করে। তারা হিসাব করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এবং হিজবুল্লাহসহ প্রতিরোধ অক্ষের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমে চাপ বজায় রাখে। এর ফলে যুদ্ধ এমন এক পর্যায়ে চলে যায় যেখানে ইরান তুলনামূলকভাবে কম শক্তি ব্যবহার করেও বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি করতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্য পুরোপুরি পরিত্যাগ করা হয়নি। ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে একটি সশস্ত্র নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় এক গ্যাং নেতা ও পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও চারটি তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো দাবি করেছে, এই গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যোগাযোগ ছিল এবং এটি ছিল অনুপ্রবেশ ও নাশকতার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
তেহরানে বাসিজ চৌকিতে ড্রোন হামলার ঘটনাকেও কর্মকর্তারা বিদেশি শক্তির অস্থিরতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছেন। এর পর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বাসিজ বাহিনীর মোতায়েন পদ্ধতি আরও কঠোর করেছে এবং সংবেদনশীল শহুরে এলাকাগুলোতে টহল বাড়িয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হামলার পর নতুন অনেক স্বেচ্ছাসেবক বাসিজ ইউনিটে যোগ দিতে এগিয়ে এসেছে। এই বার্তার মাধ্যমে সরকার বোঝাতে চেয়েছে যে ব্যবস্থার আদর্শিক ভিত্তিকে লক্ষ্য করে হামলা করলেও জনসমর্থন দুর্বল হবে না, বরং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আরও শক্তিশালী হতে পারে।

ওয়াশিংটনে উদ্বেগ
ইরানের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে ওয়াশিংটনেও আলোচনা চলছে। আইনপ্রণেতাদের দেওয়া গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, চলমান বোমাবর্ষণের মধ্যেও ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো মোটামুটি অক্ষত রয়েছে।
এ ধরনের একটি গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে শেষ পর্যন্ত স্থল অভিযানের চাপ তৈরি হতে পারে। নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এমন আশঙ্কা রয়েছে যে বিমান হামলা যদি সরকারকে দুর্বল করতে না পারে, তবে যুদ্ধ ধীরে ধীরে আরও গভীর সামরিক সম্পৃক্ততার দিকে গড়াতে পারে।
এর আগেও ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন কাজে লাগানোর চেষ্টা হয়েছিল, বিশেষ করে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে। কিন্তু তা বাস্তবে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি। তাই বাসিজ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা সম্ভবত আরেকটি পরীক্ষা—যার মাধ্যমে দেখা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ চাপ তৈরি করে সীমিত স্থল অভিযান সম্ভব কি না।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা
যুদ্ধের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতক্ষেত্র এখনো সামুদ্রিক অঞ্চল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির আশপাশে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় প্রণালির ভেতরে বা কাছাকাছি অন্তত চারটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরে দুটি তেলবাহী জাহাজও রয়েছে। এর আগে বড় মালবাহী জাহাজ ও কন্টেইনার জাহাজেও হামলা হয়েছিল। ফলে অনেক শিপিং কোম্পানি এখন এই জলপথকে কার্যত সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে দেখছে।

শুধু জাহাজ চলাচলই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থল অবকাঠামোও হামলার মুখে পড়েছে। দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ওমানের সালালাহ বন্দরের তেল স্থাপনাতেও আগুন লাগে। বাহরাইন জানিয়েছে, মুহাররাক গভর্নরেট এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন কার্যক্রম দেখা গেছে।
এসব ঘটনার ধারাবাহিকতা দেখিয়ে দিচ্ছে, ইরান ও তার মিত্ররা উপসাগরীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরাসরি হুমকির মুখে ফেলতে সক্ষম—যা শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করছে।
তেলের বাজারে ধাক্কা
এই উত্তেজনার প্রভাব তেলের দামে তাৎক্ষণিকভাবে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। যদিও প্রধান ভোক্তা দেশগুলো কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে, তবুও পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কিছু পশ্চিমা বিশ্লেষণ বলছে, যদি এই পরিস্থিতি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে এবং সংঘাত মে মাস পর্যন্ত গড়ায়, তবে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত উত্তেজনা চললেও দাম ১৩০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
অর্থনৈতিক ব্যয় বাড়ছে

যুদ্ধ ইতিমধ্যেই আঞ্চলিক উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। ইরাক কিছু ট্যাংকার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজের বীমা খরচও দ্রুত বেড়েছে। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোরগুলোর একটি এখন কার্যত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পরিচালিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ও বাড়িয়ে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই প্রায় ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল প্রতিদিন প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে, কারণ তারা অব্যাহত বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রেখেছে।
একাধিক ফ্রন্টে সংঘাত
এদিকে ইরান অসম কৌশলে চাপ বজায় রেখেছে। ইসরায়েলি শহরগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং তেলআবিবে আবারও রাতের বেলায় বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে উঠেছে।
একই সময়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে রকেট ও ট্যাংকবিধ্বংসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে একাধিক ফ্রন্টে মনোযোগ ভাগ করতে হচ্ছে।
তেহরানের দৃষ্টিতে যুদ্ধের ভৌগোলিক বিস্তার কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইরানি বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহ ও ইরাকভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে লেবানন, ইরাক এবং সম্ভাব্য অন্য অঞ্চলেও সম্পদ ভাগ করতে বাধ্য করছে, ফলে ইরানের ওপর সরাসরি চাপ কিছুটা কমে।
নতুন ফ্রন্টের সম্ভাবনা

আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের আলোচনায় ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের সম্ভাব্য সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাও উঠে আসছে। যদি তা ঘটে, তবে বাব আল-মান্দেব সামুদ্রিক পথও ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহ আরও সংকটে পড়তে পারে।
একই সঙ্গে ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডে একটি ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে বলে আলোচনা রয়েছে, যা হুথি তৎপরতা মোকাবিলার অংশ হতে পারে। এসব ইঙ্গিত দেখাচ্ছে সংঘাত আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কূটনৈতিক তৎপরতা
তবে সংঘাত বাড়লেও নেপথ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগও জোরদার হচ্ছে। কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ সংলাপের পথ খোলার চেষ্টা করছে।
ওমান, মিশর, পাকিস্তান এবং তুরস্কের কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পথ তৈরির চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান আবারও ঐতিহ্যগত ভূমিকা পালন করছে।
পাকিস্তানও এই প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জরুরি আলোচনার জন্য সৌদি আরবে গিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন।

যুদ্ধবিরতির শর্ত
তবে এই উদ্যোগ সত্ত্বেও সংঘাতের সমাপ্তি এখনো অনিশ্চিত। বুধবার রাতে পেজেশকিয়ান পুনরায় বলেছেন, ইরান কেবল তখনই যুদ্ধবিরতি বিবেচনা করবে যখন ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগের স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
এই শর্তগুলো সমঝোতার পথকে সীমিত করে দিচ্ছে। কারণ ওয়াশিংটন ও তেলআবিব দৃশ্যমান সাফল্য ছাড়া অভিযান কমালে তা পশ্চাদপসরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে তেহরানের পক্ষেও এমন একটি সাময়িক বিরতি মেনে নেওয়া কঠিন, যা তাদের বর্তমান কৌশলগত সুবিধাকে স্থায়ী রাজনৈতিক নিশ্চয়তায় রূপান্তর করবে না।
ফলে যুদ্ধ এখন ধৈর্যের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। সামরিক হামলা, সামুদ্রিক বিঘ্ন এবং অর্থনৈতিক চাপ একসঙ্গে চলতে থাকলেও যুদ্ধ থামানোর মতো প্রয়োজনীয় ছাড় এখনো কোনো পক্ষই দিতে প্রস্তুত নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















