এ বছরের অস্কারে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার কে জিতবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে হলিউডে এখন যে আলোচনাটি সবচেয়ে জোরালো, তা হলো—শেষ পর্যন্ত লড়াইটি সম্ভবত দুই ছবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আর আশ্চর্যের বিষয়, দুটি ছবিই একই স্টুডিও, ওয়ার্নার ব্রাদার্সের তৈরি।
একদিকে আছে পল থমাস অ্যান্ডারসনের কালো রসাত্মক চলচ্চিত্র ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’, অন্যদিকে রায়ান কুগলারের জিম ক্রো যুগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ভ্যাম্পায়ার গল্প ‘সিনার্স’। গল্প, ধরন এবং টোনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এই দুই ছবির মিল একটাই—দুটিই অস্কারের শীর্ষ প্রতিযোগী।
পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে দুই চলচ্চিত্র
‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ ইতোমধ্যে ব্রিটিশ একাডেমি চলচ্চিত্র পুরস্কারে বড় জয় পেয়েছে। পাশাপাশি ডিরেক্টরস গিল্ড অব আমেরিকা এবং প্রডিউসারস গিল্ড অব আমেরিকার পুরস্কারও জিতে নিয়েছে। এই অর্জনগুলো সাধারণত অস্কারে সেরা চলচ্চিত্রের সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে ‘সিনার্স’ও কম শক্তিশালী নয়। ছবিটি ১৬টি অস্কার মনোনয়ন পেয়ে রেকর্ড গড়েছে। অভিনেতাদের সংগঠন কর্তৃক দেওয়া অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ডেও এটি বড় জয় পেয়েছে, যা অস্কারের ভোটারদের বড় অংশের সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়।
কর্পোরেট যুদ্ধের মধ্যেও প্রচারণা
এই সাফল্যের পেছনে আরেকটি নাটকীয় প্রেক্ষাপট রয়েছে। কয়েক মাস ধরেই ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মূল কোম্পানি ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি নিয়ে বড় কর্পোরেট দরকষাকষি চলছে।
গত ডিসেম্বরে স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স ঘোষণা দেয় যে তারা কোম্পানিটির বড় অংশ কিনে নিচ্ছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে প্যারামাউন্ট আরও বড় প্রস্তাব দিয়ে পুরো কোম্পানিটি ১১১ বিলিয়ন ডলারে কেনার ঘোষণা দেয়।
এই কর্পোরেট টানাপোড়েনের মাঝেও স্টুডিওটির বিপণন ও প্রচারণা দল দুই ছবিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে অস্কার প্রচারণা চালিয়েছে। ফলে পুরো পুরস্কার মৌসুমজুড়ে দুই ছবিই ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে।
সমান প্রচারণার কৌশল
স্টুডিও সূত্রে জানা যায়, দুই ছবির জন্য আলাদা প্রচারণা দল গঠন করা হয়েছিল। দলগুলো নিয়মিত যোগাযোগ রাখত, যাতে প্রচারণার মাত্রা প্রায় সমান থাকে।
স্টুডিওর দুই প্রধান নির্বাহী—মাইকেল ডি লুকা এবং পাম অ্যাবডি—নিজেরাও ভারসাম্য বজায় রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। বিভিন্ন পুরস্কার অনুষ্ঠানে তারা পালাক্রমে দুই ছবির টেবিলে বসেছেন, যাতে কোনোটিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এমন ধারণা না তৈরি হয়।

ভিন্ন পথের দুই সাফল্য
‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ শুরু থেকেই অস্কারের সম্ভাব্য ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত ছিল। ছবিটির প্রথম প্রদর্শনীতেই প্রশংসা করেছিলেন কিংবদন্তি পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ। তিনি এটিকে “অবিশ্বাস্য” ও “উন্মাদনাময়” বলে মন্তব্য করেন। এরপর থেকেই ছবিটি নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে।
অন্যদিকে ‘সিনার্স’-এর পথ ছিল কঠিন। কারণ ভ্যাম্পায়ারধর্মী কোনো ছবি আগে কখনো সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পায়নি। তাছাড়া এটি মুক্তি পেয়েছিল এপ্রিল মাসে, যা সাধারণত অস্কার মৌসুমের বাইরে বলে ধরা হয়।
তবুও সমালোচকদের প্রশংসা এবং শক্তিশালী বক্স অফিস সাফল্য ছবিটিকে সামনে নিয়ে আসে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ছবিটির আয় দাঁড়ায় প্রায় ২৭৮ মিলিয়ন ডলার।
আগ্রহ ফিরিয়ে আনার অভিনব উদ্যোগ

নভেম্বর মাসে ছবিটির প্রচারণা নতুন করে জোরদার করতে হলিউডে ছবির বিখ্যাত জুক জয়েন্ট সেট পুনর্নির্মাণ করা হয়। সেখানে পুরো অভিনেতা দল আবার একত্রিত হন। সুরকার লুডউইগ গোরানসন, গায়ক রাফায়েল সাদিক এবং অভিনেতা মাইলস ক্যাটন ছবির গান পরিবেশন করেন। এর মধ্যে ‘আই লাইড টু ইউ’ গানটি পরে অস্কারের মনোনয়নও পায়।
এরপর ছবির তারকা মাইকেল বি. জর্ডানকে সম্মান জানিয়ে আমেরিকান সিনেমাথেক এবং সান্তা বারবারা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও বিশেষ আয়োজন করা হয়।
অস্কারের মঞ্চে শেষ পর্যন্ত কোন ছবি জয়ী হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—যে ছবিই জিতুক না কেন, জয়টা শেষ পর্যন্ত ওয়ার্নার ব্রাদার্সেরই হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















