মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত দ্রুত নতুন মাত্রা নিচ্ছে। ইরানের খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার দাবি ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে কাতার, সৌদি আরব ও ইসরায়েলকে ঘিরে নতুন হামলা ও প্রতিরোধের খবর পাওয়া গেছে। পুরো অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়ছে।
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা
ইরাকের রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। হামলার পর দূতাবাস চত্বরে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং এলাকায় সতর্ক সাইরেন বেজে ওঠে। নিরাপত্তা সূত্রের মতে, এই হামলা ঘটে ঠিক সেই সময়ে যখন বাগদাদে ইরানপন্থী যোদ্ধাদের ওপর পৃথক হামলায় দুজন নিহত হয়।

খার্গ দ্বীপ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পাল্টা বক্তব্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়ে মার্কিন বাহিনী সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। তবে ইরানের সংবাদ সংস্থাগুলো বলছে, দ্বীপে ধোঁয়া উঠলেও সেখান থেকে ইরানি বাহিনীর কার্যক্রম এখনও চালু রয়েছে। ইরানি সূত্রের দাবি, হামলার পরও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে নতুন উত্তেজনা
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানি হামলার কারণে সামুদ্রিক চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এই প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেলের বড় একটি অংশ পরিবহন হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন নৌবাহিনী দ্রুত তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

কাতার ও সৌদি আরবে হামলা প্রতিরোধ
কাতারের রাজধানী দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর কিছু এলাকা সাময়িকভাবে খালি করা হয়। একই সময়ে সৌদি আরবের আকাশে একাধিক ড্রোন ধ্বংস করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
ইসরায়েলের দিকে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইরানের পাল্টা অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর নতুন মোতায়েন
উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন বাহিনী অঞ্চলে আরও শক্তি বাড়িয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার মেরিন সেনাসহ একটি বড় যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তেলের বাজারে অস্থিরতা
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যারেলপ্রতি দাম একশ ডলারের উপরে অবস্থান করছে। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















