মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৃতীয় সপ্তাহে গড়াতেই উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা ইস্যুতে মিত্র দেশগুলোর অনীহায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে মিত্রদের অনীহা
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও জার্মানি, স্পেন ও ইতালির মতো দেশগুলো তাতে সাড়া দেয়নি।
এতে হতাশা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশকে সুরক্ষা দিয়ে এসেছে, তাদের মধ্যেই কেউ কেউ এই সংকটে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তিনি ইঙ্গিত দেন, মিত্রদের এই মনোভাব তাকে বিস্মিত করেছে এবং এতে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

আকাশজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই
মঙ্গলবার ভোরেও থামেনি হামলা। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা তেহরানে ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে এবং একই সঙ্গে বৈরুতেও হামলা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও ইসরায়েলের ওপর রাতভর হামলা চালিয়েছে, যা তাদের দীর্ঘপাল্লার আক্রমণ সক্ষমতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলেও আঘাত হেনেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলায় তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। দুবাই বিমানবন্দর কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকে এবং ফুজাইরাহ বন্দরে তেল লোডিং কার্যক্রম স্থগিত হয়। আবুধাবির গ্যাস ক্ষেত্রেও কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যেসব দেশ থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে, সেই দেশগুলোর তেল ও গ্যাস স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
এরই মধ্যে বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে তীব্র হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

‘এটা কেউ ভাবেনি’—ট্রাম্প
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যে কাতার, সৌদি আরব, আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলা চালাবে, তা তারা আগে অনুমান করেননি। তার ভাষায়, এই ঘটনা তাদের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র আগে থেকেই সতর্ক করেছিল, ইরানের ওপর হামলা হলে তারা পাল্টা প্রতিশোধ নিতে পারে এবং তা শুধু ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। সরবরাহ নিয়ে শঙ্কার কারণে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারেও ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

বাড়ছে প্রাণহানি
এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে ইরানে বহু শিশুও রয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা, আর যুদ্ধের কোনো দ্রুত সমাধানের ইঙ্গিত মিলছে না।
শোকের ছায়া নেমে এসেছে বহু পরিবারে। ইরানের এক মা জানিয়েছেন, মৃত্যুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে ছেলের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল, এরপর আর তাকে ফিরে পাননি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















