খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে মে মাসে খুচরা মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের মাস এপ্রিলে এই হার ছিল ৩.৫ শতাংশ। ফলে গত ১৬ মাসের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির হার হিসেবে উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২৫-এর পর এবারই মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়েছে। সেই সময় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৪.০৬ শতাংশ। যদিও সামগ্রিক হার এখনও ৪ শতাংশের নিচে রয়েছে, খাদ্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
খাদ্যপণ্যের দামে চাপ
মে মাসে বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। দীর্ঘ সময় পর শস্যজাত পণ্যের মূল্য পরিবর্তন আবার ইতিবাচক অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। শস্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.২৮ শতাংশে। এর পেছনে চালের দাম বৃদ্ধিই বড় ভূমিকা রেখেছে। চালের দাম মে মাসে ০.২৩ শতাংশ বেড়েছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে টমেটোর দাম। এপ্রিলে যেখানে টমেটোর মূল্যস্ফীতি ছিল ৩৫.৩ শতাংশ, মে মাসে তা লাফিয়ে বেড়ে ৪৮.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে খাদ্য ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
আবাসন ও জ্বালানি খাতেও বৃদ্ধি
খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি খাতেও মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়েছে। খুচরা মূল্যসূচকের বড় অংশজুড়ে থাকা এই খাতের মূল্যস্ফীতি এপ্রিলে ১.৭১ শতাংশ থেকে মে মাসে ১.৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যপণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে সামনের মাসগুলোতেও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ থাকতে পারে। বিশেষ করে সবজি ও প্রধান খাদ্যশস্যের দাম স্থিতিশীল না হলে সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

সামনে কী চ্যালেঞ্জ
মূল্যস্ফীতির হার এখনও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি, মৌসুমি উৎপাদন এবং ভোক্তা চাহিদার ভারসাম্য আগামী মাসগুলোর মূল্যস্ফীতির গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচও ক্রমেই বাড়ছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণযোগ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















