পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। তবে সিঙ্গুরে যে জমিতে একসময় টাটা মোটরসের ছোট গাড়ির কারখানা গড়ে উঠেছিল, সেই জমি এখন আর রাজ্য সরকারের হাতে নেই, কারণ তা কৃষকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তাঁর সরকার বাস্তবভিত্তিক শিল্পায়নে বিশ্বাস করে এবং শুধুমাত্র প্রচারমূলক আয়োজনের মাধ্যমে বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করবে না। রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং তার প্রতিফলন চলতি মাসেই বিধানসভায় উপস্থাপিত বাজেটে দেখা যাবে।
শিল্পায়নে জমি নিয়ে আশাবাদ

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ বড় বাধা হবে না। অতীতের মতো জোরপূর্বক জমি নেওয়ার পথে সরকার হাঁটবে না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, শিল্প ও উন্নয়নের স্বার্থে অনেক মানুষ স্বেচ্ছায় জমি দিতে আগ্রহী।
তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে জমি বরাদ্দ দেওয়া সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এই অভিজ্ঞতা থেকেই সরকারের ধারণা, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে মানুষের সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর জোর
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শিল্পায়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।
তিনি জানান, সরকার এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আস্থা নিয়ে ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারেন।

আইনশৃঙ্খলায় কঠোর অবস্থান
সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অশান্তি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দুষ্কৃতিকারী তৎপরতা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির ওপর ভিত্তি করে।
তার মতে, উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অপরিহার্য এবং সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
হকার উচ্ছেদ অভিযানের পক্ষে সাফাই
কলকাতার রাস্তা, ফুটপাত ও রেলস্টেশন এলাকায় চলমান দখলমুক্তকরণ অভিযান নিয়েও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপদে চলাচলের অধিকার রয়েছে এবং ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখল করে রাখার অধিকার কারও নেই।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, নগরীর রাস্তা ও ফুটপাত জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য এবং সেগুলোকে দখলমুক্ত রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















