সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা আমিরাতে একটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষে একজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে ফুজাইরার আল-রিফা এলাকার একটি খামারে এই ঘটনা ঘটে। ফুজাইরা সরকারের মিডিয়া অফিস নিশ্চিত করেছে যে আমিরাতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে একটি মানবহীন বিমান (ড্রোন) ঠেকিয়ে দেয়। তবে ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটায়।
যুদ্ধের ছায়া প্রবাসী জীবনে

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে প্রবাসী কর্মীরা নতুন ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। ইরান পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। খালিজ টাইমসের তথ্যমতে, এই ঘটনার ফলে আমিরাতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১২ জনে। নিহতদের মধ্যে পাকিস্তানি, নেপালি, ফিলিস্তিনি ও ভারতীয় নাগরিকদের পাশাপাশি এখন বাংলাদেশিও রয়েছেন। এ পর্যন্ত আমিরাতে আহত হয়েছেন ১৮৮ জন।
ড্রোন ঠেকাতে গিয়েও বিপদ
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৩৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজারেরও বেশি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এই বিশাল সংখ্যার ইঙ্গিত দেয় যে উপসাগরীয় আকাশ এখন কতটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। ইরান দাবি করছে তারা মার্কিন সামরিক সম্পদ লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো বলছে, বেসামরিক অবকাঠামো ও নিরীহ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। আমিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ফিলিপাইন, ইথিওপিয়া, সুদানসহ ৩০টিরও বেশি দেশের নাগরিক রয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি শ্রমিক সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত। উপসাগরীয় অঞ্চলে মোট প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা এক কোটির উপরে। ফুজাইরায় এই মৃত্যু কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি হাজার হাজার পরিবারের আতঙ্কের নতুন মাত্রা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















