সরকারের জরুরি সিদ্ধান্ত
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়ে ওঠায় বাংলাদেশ সরকার জরুরি ভিত্তিতে একগুচ্ছ সাশ্রয়মূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। সরকারি অফিসের সময় কমিয়ে আনা হয়েছে এবং শপিংমল ও দোকানপাট নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো
বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার এখন থেকে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। শপিংমল, বাজার ও দোকানপাট নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অফিসের কার্যঘণ্টাও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটায় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেন এবং বৈঠক চলে রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত।

যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে বাংলাদেশে
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ শুরু করার পর থেকেই বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হতে থাকে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের আমদানি খরচে।
ভর্তুকির বোঝা বাড়ছে
সরকারি হিসাব বলছে, বর্তমানে ডিজেলের আমদানি মূল্য প্রতি লিটারে ১৯৮ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অক্টেনের আমদানি মূল্য ১৫০ টাকার বেশি হলেও দাম রাখা হয়েছে ১২০ টাকা। শুধু মার্চ মাসেই ডিজেলে ভর্তুকি দিতে হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। জুন পর্যন্ত এই ভর্তুকির পরিমাণ ১৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানিমন্ত্রী।

সাধারণ মানুষের কষ্ট
ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতা, সবাই এই সংকটের ভার বহন করছেন। দোকান আগে বন্ধ হলে ব্যবসায়ীদের আয় কমবে। অফিস সময় কমলে কর্মীদের কাজে প্রভাব পড়বে। আর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নামে লোডশেডিং বাড়লে গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















