মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দেশে জাতীয় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে উঠেছে। এতে তিন বছরে আরও ১৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। একই সময়ে যে ১৭ লাখ মানুষের দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা ছিল, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৫ লাখে।
দারিদ্র্যের চিত্র কেন বদলাল
২০২৫ সালে জাতীয় দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে, যা ২০২২ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এই পরিবর্তন শুধু পরিসংখ্যানের নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর বাড়তি চাপেরও ইঙ্গিত। ২০২২ সালের পর উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কমে যাওয়া ক্রয়ক্ষমতা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব কতটা
বিশ্বব্যাংক বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত না হলে চলতি বছরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা নেমে এসেছে মাত্র ৫ লাখে। অর্থাৎ প্রায় ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা হারাচ্ছে। এ থেকেই বোঝা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসের গতিকে বড়ভাবে ধাক্কা দিয়েছে।
মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতার চাপ
একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে রয়েছে। খাদ্য ও অখাদ্য দুই ধরনের পণ্যের দামই উঁচু অবস্থানে আছে। কিন্তু নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষের মজুরি সেই হারে বাড়েনি। ফলে তাদের প্রকৃত আয় কমেছে, কমেছে ক্রয়ক্ষমতাও।
সামনে কী সংকেত
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলাদেশের নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ এখন দ্বিমুখী। একদিকে ২০২২ সালের পর দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার পথও সংকুচিত করেছে। ফলে দারিদ্র্য কমানোর অগ্রগতি এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















