বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি এলো। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর নতুন ফোর্স কমান্ডার হিসেবে বাংলাদেশের মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলমকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি মঙ্গোলিয়ার মেজর জেনারেল এরদেনেবাত বাতসুরির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
এই নিয়োগকে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা ভূমিকার আরেকটি বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, আর সেই ধারাবাহিকতায় এবার সাইপ্রাস মিশনের নেতৃত্বে এলেন একজন বাংলাদেশি জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা।

তিন দশকের বেশি নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা
মেজর জেনারেল আলম বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে তিন দশকের বেশি সময়ের নেতৃত্ব ও কমান্ড অভিজ্ঞতা নিয়ে এই দায়িত্বে যাচ্ছেন। সর্বশেষ তিনি আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি দশ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার ছিলেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সন্ত্রাস দমন থেকে দুর্যোগ মোকাবিলা
কর্মজীবনের আরও আগে তিনি পদাতিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে একাধিক কমান্ড ও স্টাফ দায়িত্বে ছিলেন। সন্ত্রাস দমন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। এই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাই তাকে নতুন দায়িত্বের জন্য আরও শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।
শান্তিরক্ষা মিশনে আগের অভিজ্ঞতা
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও তার সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা আছে। তিনি মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের বহুমাত্রিক স্থিতিশীলতা মিশনে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছেন। এরও আগে পূর্ব তিমুরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে শান্তিরক্ষা পরিবেশ, বহুজাতিক সমন্বয় এবং জটিল নিরাপত্তা বাস্তবতা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা বেশ গভীর।
শিক্ষাগত যোগ্যতাও সমৃদ্ধ
মেজর জেনারেল আলমের শিক্ষাগত ভিত্তিও বিস্তৃত। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল, প্রতিরক্ষা শিক্ষা এবং ব্যবসা প্রশাসনেও উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। সামরিক নেতৃত্বের পাশাপাশি নীতিগত ও কৌশলগত ভাবনাতেও তার প্রস্তুতি এই নিয়োগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।
বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
সাইপ্রাসে এই দায়িত্ব শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ব্যবস্থায় বাংলাদেশের আস্থা, সক্ষমতা এবং গ্রহণযোগ্যতারও প্রতিফলন। জাতিসংঘের মতো মঞ্চে এমন নেতৃত্বের পদে বাংলাদেশি কর্মকর্তার উপস্থিতি দেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















