ইরান যুদ্ধের কারণে দেড় মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ থাকায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িক বন্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে। জ্বালানি বিভাগ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সূত্র জানিয়েছে, ডেডস্টক ও পাইপলাইনে অবশিষ্ট তেল মিলিয়ে বর্তমান মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালানো সম্ভব ছিল। শোধনাগারটি সাধারণত দৈনিক ৪,৫০০ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়া করলেও সংকটের কারণে তা কমিয়ে ৩,৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

মজুত পরিস্থিতি ও জরুরি উদ্যোগ
৪ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত ২,০০০ টনের নিচে নেমে গেছে। এর বাইরে ট্যাংকের তলানিতে প্রায় ১০,০০০ টন ডেডস্টক এবং পাইপলাইনে প্রায় ৫,০০০ টন তেল রয়েছে, যা উদ্ধার করতে বিশেষ পাম্পিং প্রয়োজন। সব মিলিয়ে এই মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ দিন চালানো সম্ভব। সরকার জরুরি ভিত্তিতে চালান সুরক্ষিত করার চেষ্টা করছে। সৌদি আরব থেকে আরও একটি ১,০০,০০০ টনের চালান ১৮ এপ্রিল রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জ্বালানি সংকট কি আসন্ন
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, ইআরএল দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ পূরণ করে। ইরান সংকটের শুরু থেকেই সরকার পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি বাড়িয়ে শোধনাগারের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ৬০,০০০ টন পরিশোধিত তেল বহনকারী দুটি জাহাজ এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও ৬০,০০০ টনের চালান প্রত্যাশিত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি না খোলা পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















