জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কার্যক্রমের সূচনা করেন।
প্রথম দিন থেকেই নারী নেত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে দলীয় কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শত শত নারী নেতা ২ হাজার টাকা জমা দিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের ভূমিকা তুলে ধরে সংসদে প্রতিনিধিত্বের আশায় তাদের মধ্যে ছিল দৃশ্যমান উৎসাহ ও আবেগ।
মনোনয়ন বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে আন্দোলন ও নেতৃত্ব
উদ্বোধনী বক্তব্যে রিজভী বলেন, দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবদানকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। গত ১৬-১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং সংসদে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মনোনয়ন নিয়ে কোনো ধরনের বিভক্তি সৃষ্টি না করে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। সবার ত্যাগ ও অবদানের প্রতি সম্মান রেখে ঐক্য বজায় রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।
মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমার সময়সীমা
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রার্থীদের ফরম জমা দিতে হবে।
প্রথম দিনে মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেন জেরিন দেলোয়ার হোসেন এবং দ্বিতীয় ফরমটি দেওয়া হয় ফাতেমা আসাদকে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা
এর আগে নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল এবং যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিলের মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন পদ্ধতি
সংরক্ষিত নারী আসনগুলো পরোক্ষ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়, যেখানে সাধারণ আসনে দলগুলোর আসনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করা হয়। কোনো আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে হয়, তবে সাধারণত দলগুলো তাদের প্রাপ্য আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি ও তার জোট পাবে ৩৬টি আসন, জামায়াত ও তাদের জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা একটি আসন পাবে। মোট সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৫০টি।
আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফল গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যেই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















