ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। তবে জনগণের কষ্ট কমাতে সরকার দেশে জ্বালানির মূল্য বাড়ায়নি বলে জাতীয় সংসদে ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটের বাইরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও সরকারের অর্থনৈতিক অঙ্গীকার
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা। তিনি জানান, এই অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানির জন্য প্রায় তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে, যা বাজেট ঘাটতি বাড়াবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ ফেলবে। এ পরিস্থিতি সামলাতে সরকার জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অতিরিক্ত অর্থায়নের আবেদন করছে।
সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার সংস্কার, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং কর্পোরেট বন্ড ও সুকুক চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন তিনি। সামাজিক সুরক্ষায় ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং কৃষক কার্ডের আওতায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















