কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় শনিবার দুপুরে এক স্বঘোষিত পীরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে একটি উগ্র জনতা। নিহত ব্যক্তির নাম আবদুর রহমান শামিম (৫২), যিনি স্থানীয়ভাবে ‘কালান্দার বাবা’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর দরবারে একটি মাহফিলে করা মন্তব্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে বলে অভিযোগ তোলে স্থানীয়রা। এর পরই ফিলিপনগর এলাকায় হামলা চালায় দুইশোরও বেশি মানুষের একটি দল।
কীভাবে ঘটল ঘটনা
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, ঘটনাটি ঘটে বেলা আড়াইটার দিকে। পুলিশ আগেই আঁচ করতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু লাঠি হাতে দুইশোরও বেশি মানুষের জনতা তাঁর দরবারে ঢুকে পড়ে এবং শামিমকে ধারালো অস্ত্র ও ভোঁতা বস্তু দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করে। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর দুই অনুসারীও গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলাকারীরা দরবারে আগুনও ধরিয়ে দেয়।
আগেও গ্রেফতার হয়েছিলেন
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ২০২১ সালের মে মাসে কট্টরপন্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শামিমকে একবার গ্রেফতার করেছিল। পরে আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পান তিনি। ঘটনাটির তদন্তে র্যাব ও সশস্ত্র পুলিশ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।
নিন্দার ঝড়
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আইনের বাইরে বিচারের এই প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলে চিহ্নিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে এ ধরনের ধর্মীয় উত্তেজনাপ্রসূত হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















