পুরোনো বছরের ক্লান্তি, ব্যর্থতা ও বেদনাকে পেছনে ফেলে আজ মঙ্গলবার সারাদেশ উন্মুক্ত হৃদয়ে বরণ করে নিয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখের ভোরে রমনার বটমূল থেকে চট্টগ্রামের লালদিঘি মাঠ পর্যন্ত — সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে রঙ, সুর ও উৎসবের স্রোত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে সকাল ৯টায় শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা। এ বছরের আয়োজনে পাঁচটি প্রধান মোটিফ স্থান পেয়েছে: মোরগ, দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, মর্যাদা ও গতিশীলতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, টিএসসি, মেট্রো স্টেশন, তিন নেতার মাজার ও দোয়েল চত্বর ঘুরে পুনরায় চারুকলায় ফিরে আসে।

রমনায় ছায়ানটের প্রভাতী গান
প্রতি বছরের মতো এবারও ছায়ানট রমনা বটমূলে ভোরের আলোতে গানে গানে নববর্ষকে স্বাগত জানিয়েছে। শান্তি, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক মিলনের বার্তাবাহী এই আয়োজন দশকের পর দশক ধরে পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে আইকনিক অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে। এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য: “বৈশাখের দুর্জয় চেতনায় সমাজ ফ্যাসিবাদ ধ্বংস হোক।”
চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলা
চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলা এ বছরও তার শতবর্ষী ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। সারাদেশ থেকে আসা বলীরা অংশ নিচ্ছেন এই ঐতিহ্যবাহী লোকক্রীড়ায়।
কঠোর নিরাপত্তায় উৎসব
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি উপসেক্টরে বিভক্ত করে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সারোয়ার জানান, উৎসবকেন্দ্রিক কোনো জঙ্গি হুমকির তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। বিকেল ৫টার পর রমনা পার্কে প্রবেশ বন্ধ থাকবে। সব কর্মসূচি সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে সমগ্র দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। উভয় বাণীতেই নতুন বছরে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















